পূরবী পারমিতা বোস: গত ১৮ এপ্রিল শনিবার সিডনির গ্ল্যান্ডফিল্ড কমিউনিটি হলে শঙ্খনাদ পরিবার প্রায় শতাধিক মানুষের অংশগ্রহণে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন করে। আয়োজনে শঙ্খনাদ পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি সিডনির বাংলা কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

বৈশাখের এই বিশেষ আয়োজনকে ঘিরে অনুষ্ঠানস্থলকে সাজানো হয় বর্ণিল সাজে। এবারের ফটোবুথে বিশেষভাবে ফুটে ওঠে বাংলার চিরন্তন প্রকৃতি কলাপাতায় সজ্জিত এক নান্দনিক গ্রামীণ আবহ, যা দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

দুপুর ১২টা থেকে শুরু হয়ে রাত ৯টা পর্যন্ত চলে দিনব্যাপী এই আয়োজন। মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করা হয়। শোভাযাত্রায় শঙ্খনাদ পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় কমিউনিটির গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। “এসো হে বৈশাখ” গানের সুরে শোভাযাত্রাটি হল প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ করে উৎসবের আবহকে প্রাণবন্ত করে তোলে।

এরপর অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি গনেশ ভৌমিক। তিনি উপস্থিত সকল অতিথিকে শুভেচ্ছা জানান এবং আয়োজনে অংশগ্রহণের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। কমিউনিটির পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সমাজসেবক মোঃ শফিকুল আলম, ‘আমাদের কথা’ সংগঠনের সভাপতি পূরবী পারমিতা বোস এবং শঙ্খনাদের সভাপতি রবীন্দ্র দাসসহ আরও অনেকে।

অনুষ্ঠানের মধ্যাহ্নভোজ ছিল বাঙালির ঐতিহ্যবাহী খাবারের এক সমৃদ্ধ আয়োজন। অতিথিদের জন্য পরিবেশন করা হয় বিভিন্ন ধরনের ভর্তা, সবজি, মাছ ও মাংসের পদ, পিঠা-পুলি, মিষ্টি, পায়েস, দই-চিড়া ও ফলমূল। পাশাপাশি ছিল চা ও ঝালমুড়ির ব্যবস্থাও।

বিকালে শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে শঙ্খনাদ পরিবারের নিজস্ব শিল্পীরা বৈশাখী গান, দলীয় সংগীত, কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশন করেন, যা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে।
অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে শঙ্খনাদের সভাপতি রবীন্দ্র দাস আয়োজনে সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি আগামী বছর আরও বৃহত্তর ও বর্ণাঢ্য পরিসরে বাংলা নববর্ষ এবং মঙ্গল শোভাযাত্রা আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।