কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গহীন পাহাড়ি জঙ্গল থেকে তিন যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন— নুরুল বশর (২৮), রবি আলম (২৩), মুজিবুর রহমান (২৮)। নিহত সবাই একই এলাকার উত্তর শিলখালী গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল সন্ধ্যা প্রায় ৭টার দিকে মোর্শেদ আলম নামের এক সন্ত্রাসী রবি আলমকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আজ ভোর ৬টার দিকে মোর্শেদ আলম তার ভাই মুজিবুর রহমানকে গুরুতর আহত অবস্থায় শামলাপুর এলাকার একটি ফার্মেসিতে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে, নুরুল বশরকে পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত একটি গোপন আস্তানা থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। একই স্থান থেকে পুলিশ রবি আলমের মরদেহ উদ্ধার করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র বলছে, মোর্শেদ আলম গ্রুপ ও অজ্ঞাত আরেকটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ধারণা করা হচ্ছে, মোর্শেদ আলম তার আপন ভাই মুজিবুর রহমান, চাচাতো ভাই রবি আলম এবং সহযোগী নুরুল বশরকে গোপন আস্তানায় ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের মধ্যে কোনো বিরোধ বা সংঘর্ষের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই ঘটনার মূল রহস্য মোর্শেদ আলমের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে। তবে আরেকটি ধারণা অনুযায়ী, নিহতরা অপহরণ চক্রের সদস্য এবং কোনো ভিকটিম কৌশলে পালানোর সময় তাদের ওপর হামলা চালিয়ে আহত করে পালিয়ে যায়।
নিহত রবির বাবা রুহুল আমিন বলেন, সকালে স্থানীয়রা পাহাড়ে কাজ করতে গিয়ে তিনজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে নিজের ছেলেকে শনাক্ত করেন।
স্থানীয়দের বরাতে ইউপি সদস্য আমান উল্লাহ জানান, পাহাড়ে দীর্ঘদিন ধরে অপহরণ চলছে, সকালে কয়েকজন শ্রমিক কাজ করতে গিয়ে মরদেহগুলো দেখতে পেয়ে পরিবার ও এলাকাবাসীকে খবর দেয়।
টেকনাফ শামলাপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ দুর্জয় সরকার জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহগুলো উদ্ধার করেছে। প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।