পূরবী পারমিতা বোস: গত ১৮ এপ্রিল, শুক্রবার, অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের মেলবোর্নের এপিং মেমোরিয়াল হলে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হলো ‘বর্ষবরণ উৎসব ১৪৩৩’। সর্বজনীন পূজা উৎসব অফ ভিক্টোরিয়া (স্পুভিক) পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এবারও আয়োজন করে বৈশাখী মেলার। ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতি চর্চা ও ঐতিহ্য লালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।

বাংলা নববর্ষ বাঙালির সার্বজনীন উৎসব যা এপার বাংলা ও ওপার বাংলাকে একই সুতায় গেঁথে রাখে। নতুন বছরকে বরণ করে নিতে আয়োজিত এই উৎসব দিনব্যাপী নানা আয়োজনে হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত এক মিলনমেলা।

সকাল থেকেই শুরু হয় প্রস্তুতি। প্রজাপতি রায় এবং স্পুভিক ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের সহযোগিতায় সম্পন্ন হয় বর্ণিল স্টেজ ডেকোরেশন। শুধু মঞ্চই নয়, পুরো হলজুড়ে ফুটে ওঠে বাংলা সংস্কৃতির নান্দনিক ছোঁয়া। একদিকে ছিলো সুস্বাদু বাংলা খাবারের বাহার, অন্যদিকে রকমারি পোশাক, হেনা ও গয়নার স্টল, যা দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে।

দুপুর ৩টায় সংগঠনের সভাপতি ডা. বিকাশ চৌধুরী উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন। সাধারণ সম্পাদক সুরঞ্জিত সাহার সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানটি সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হয়। এরপর বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “এসো হে বৈশাখ, এসো এসো” গানের সুরে নববর্ষকে বরণ করে নেন উপস্থিত সকলে।

এরপর শুরু হয় সাংস্কৃতিক পর্ব। এতে স্পুভিক পরিবারের ছোট-বড় সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় শিল্পীরা গান, কবিতা, নৃত্য পরিবেশন করেন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল বাংলা নিকেতনের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনা, যা দর্শকদের মুগ্ধ করে।
সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক সম্পাদিকা সোমালী ভট্টাচারিয়ার পরিচালনায় মঞ্চস্থ হয় গীতি নাটক “ঋতুরঙ্গ” যা অনুষ্ঠানে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।

মেলবোর্নের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত বাংলা সংস্কৃতিপ্রেমীদের উপস্থিতিতে সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলা এই মেলা পরিণত হয় এক প্রাণের মিলনমেলায়। বর্ণিল সাজসজ্জা, প্রাণবন্ত পরিবেশ এবং নাচ-গানে মুখর অংশগ্রহণে দিনটি হয়ে ওঠে আনন্দমুখর ও স্মরণীয়।
সব মিলিয়ে, ‘বর্ষবরণ উৎসব ১৪৩৩’ প্রমাণ করেছে ভৌগোলিক দূরত্ব যতই হোক, প্রবাসে বাঙালির হৃদয়ে সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বন্ধন অটুট, উজ্জ্বল এবং গভীর।