বাংলা নববর্ষকে ঘিরে চট্টগ্রামে ব্যতিক্রমী এক আয়োজন করেছে জেলা প্রশাসন। নগরের সার্কিট হাউস সংলগ্ন কাজির দেউড়ি মোড় থেকে লাভলেইন হয়ে ডিসি হিল সড়ক পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়কজুড়ে আঁকা হয়েছে বর্ণিল আল্পনা।
রোববার (১২ এপ্রিল) রাতভর শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন এই আয়োজনে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালেই পথচারীদের দৃষ্টি কাড়ে রঙিন এই সড়ক। সাদা-লাল-হলুদ-নীলসহ নানা রঙে আঁকা আল্পনায় ফুটে উঠেছে বাংলার গ্রামীণ জীবন, লোকজ সংস্কৃতি, পহেলা বৈশাখের উৎসবমুখরতা ও সম্প্রীতির বার্তা। লতাপাতা, ফুল, পাখি, সূর্য, নকশিকাঁথার মোটিফসহ নানা চিত্রে সড়কটি যেন পরিণত হয়েছে এক বিশাল ক্যানভাসে।
আয়োজনে অংশ নেয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা শিল্পকলা একাডেমি ও শিশু একাডেমির শিক্ষার্থী ও শিল্পীরা। তারা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে নির্দিষ্ট অংশে কাজ করেন। কেউ আঁকছেন গ্রামীণ দৃশ্য, কেউবা ঐতিহ্যবাহী আলপনার নকশা, আবার কেউ তুলে ধরেছেন উৎসবের প্রতীকী চিত্র।
অংশগ্রহণকারী এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘এত বড় পরিসরে আল্পনা আঁকার অভিজ্ঞতা আগে হয়নি। আমরা সবাই মিলে কাজ করছি—এটা শুধু শিল্পচর্চা নয়, একটা উৎসবের অংশ হয়ে ওঠার অনুভূতি।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, এই আল্পনা কেবল সড়ক সাজানোর জন্য নয়। আমরা চাই আমাদের জীবন ও আগামী প্রজন্মও যেন এভাবেই রঙিন হয়ে ওঠে।
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের ভিন্নতা থাকলেও উৎসবের সময় সবাই একসঙ্গে মিলিত হয়। এই আয়োজন সেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, আমাদের সংস্কৃতির যে মেলবন্ধন, সেটি বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে চাই। নতুন প্রজন্ম যেন এই ঐতিহ্য ধারণ করে, সে লক্ষ্যেই তাদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
নিরাপত্তার বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) হোসেন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া বলেন, পহেলা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সিকিউরিটি ও অপারেশন ডিভিশনের পাশাপাশি ক্রাইম, ডিবি, কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও সিটি স্পেশাল ব্রাঞ্চ মাঠে কাজ করবে।