মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
যুক্তরাষ্ট্র ‘স্বৈরতন্ত্র’ পরিত্যাগ করলে চুক্তি হতে পারে : পেজেশকিয়ান নববর্ষে রঙে রাঙা চট্টগ্রাম, দেড় কিলোমিটারজুড়ে আল্পনার উৎসব পহেলা বৈশাখ আমাদের আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক: প্রধানমন্ত্রী হাম ও উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু আলোচনা ব্যর্থ হলেও উপসাগরীয় যুদ্ধবিরতি আপাতত টিকে আছে দ্রুত খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রম বাজার : মাহদী আমিন দল ও মতের ঊর্ধ্বে থেকে দেশকে ধারণ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় সঙ্গীত জগতের এক স্বর্ণযুগের অবসান ঘটলো। আশা ভোঁসলে আর নেই। সিডনির ওয়ালি পার্কে এ বছরের সর্ববৃহৎ বৈশাখী আয়োজন “নিরালা হোল্ডিংস বৈশাখী মেলা ২০২৬”—গাংচিল মিউজিকের উদ্যোগে রূপ নেয় প্রবাসী বাঙালির এক মহামিলনে ইরানের জব্দ সম্পদ ছাড়ার খবর নাকচ করলো হোয়াইট হাউস

ইলিশ উৎপাদন বাড়াতে আগামী দুই মাস নদীতে মাছ ধরা নিষিদ্ধ

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৭৬ Time View
11

জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে মার্চ-এপ্রিল দুই মাস মেঘনা নদীতে সকল ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এই নিষেধাজ্ঞার সময়সহ চার মাস প্রতি জেলে ভিজিএফের চাল পাবে ১৬০ কেজি। তবে মৎস্য কর্মকর্তা বলছেন, এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করার জন্য নদীতে মৎস্য বিভাগ, উপজেলা-জেলা প্রশাসন,পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করা হবে। যারা আইন অমান্য করে নদীতে নামবে, তাদের জেল-জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

জেলা মৎস্য অফিস ও জেলে সূত্রে জানায়, এই জেলায় ৫২ হাজার জেলে রয়েছে। এদের মধ্যে ৪৩ হাজার জেলে নিবন্ধিত। এসব জেলে মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে। জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দুই মাস নদীতে সকল ধরনের জাল ফেলা ও মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এসময় লক্ষ্মীপুরের রামগতির আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত একশ’ কিলোমিটার এলাকাকে ইলিশের অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এসময় সব রকমের ইলিশ সংরক্ষণ, আহরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও মজুদকরণ নিষিদ্ধ রয়েছে। এছাড়া বরফকলগুলো বন্ধ থাকবে। জেলেদেরকে সচেতন করার জন্য নদী এবং উপকূলবর্তী এলাকায় মাইকিং ও পোষ্টারিংসহ সকল ধরনের প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে জেলা প্রশাসন ও জেলা মৎস্য বিভাগ।

এদিকে চর আলেকজান্ডার থেকে রায়পুরের হাজীমারা পর্যন্ত ৩০টি মাছ ঘাট রয়েছে। এর পাশাপাশি নদী এলাকায় যেসব বরফ মিল রয়েছে সেগুলোও বন্ধ থাকবে। এই আইন অমান্য করলে জেল-জরিমানার বিধান রয়েছে।

মজু চৌধুরীর হাটের জেলে কালাম, মিন্টু, শরীফ হোসেন বলেন,জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদনের লক্ষ্যে সরকার যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সেটা মেনে জেলেরা নদীতে যাবে না। কিন্তু জেলেদের পুনর্বাসন করার কথা থাকলেও সেটা এখন পর্যন্ত হয়নি। যে পরিমাণ জেলে রযেছে, সে পরিমাণ সরকারি খাদ্য সহায়তা দেয়া হয় না বলে অভিযোগ করেন জেলেরা। নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল লুটপাট না করে সঠিক তালিকা তৈরি করে দ্রুত যেন তা পেতে পারে সেটা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

বরফ মিল মালিকরা বলেন, সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে বরফগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু এ সময়ে বরফ মিল মালিকদের অনেক লোকসানে পড়তে হয়। যদি সরকারি বরফ কল সহযোগিতা করত,তাহলে অনেক ভালো হতো বলে দাবী করেন তারা।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহামুদুল হাসান চৌধুরী বলেন, দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করার জন্য নদীতে মৎস্য বিভাগ, উপজেলা-জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করা হবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে নামলে জেল-জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এরপরও যারা আইন অমান্য করে নদীতে যাবে,তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এবারও অভিযান সফল হলে অধিক পরিমাণ ইলিশ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

জেলা প্রশাসক এসএম মেহেদী হাসান বলেন, জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে কাজ করছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে টাস্কফোর্সের সমন্বয় কমিটি। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি ভিজিএফের চাল নিয়ে কোনো অনিয়ম পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category