জাতীয় সংসদে চূড়ান্তভাবে পাস হয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের নতুন বাজেট। বুধবার (১ জুলাই) থেকে দেশজুড়ে কার্যকর হতে যাচ্ছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল বাজেট। এবারের বাজেটে কর, ভ্যাট ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে বেশ কয়েকটি বড় ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে কণ্ঠভোটের মাধ্যমে নতুন অর্থবছরের এই বাজেটটি পাস করা হয়। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তাদের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট।
এর আগে সোমবার (২৯ জুন) জনস্বার্থে বেশ কিছু সংশোধনী এনে জাতীয় সংসদে ২০২৬ সালের অর্থবিল পাস করা হয়। সংশোধিত অর্থবিলের মাধ্যমে ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়িয়ে চার লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি আবাসন খাতে কোনো ধরনের প্রশ্ন ছাড়া কালো টাকা বা অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের বিতর্কিত সুযোগটি এবার পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে।
নতুন বাজেটে শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতের করের বোঝাও কমানো হয়েছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলোর করপোরেট করের হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে মাত্র ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া সাধারণ ক্রেতা ও বিক্রেতাদের স্বস্তি দিতে খুচরা ব্যবসায়ীদের ওপর নতুন করে ভ্যাট আরোপের যে প্রস্তাব করা হয়েছিল, সংশোধনীতে তা পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য এই প্রস্তাবিত বাজেটটি উত্থাপন করেছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এরপর দীর্ঘ আলোচনা শেষে সোমবার (২৯ জুন) সংসদের বাজেট আলোচনায় অংশ নেন বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অর্থবিল ও বাজেট পাসের মধ্য দিয়ে নতুন অর্থবছরের কর ও শুল্কসংক্রান্ত সকল প্রস্তাবনা চূড়ান্ত রূপ পেল।