শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ০২:৫৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সিআরপি পরিদর্শনে কামাল পাশা: প্রতিবন্ধী সেবায় বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজায় এক হাজার প্রাণহানি ১৩ হাজার ৩৪৪ জন জুলাই যোদ্ধা মাসিক ভাতা পাচ্ছেন : মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী স্ত্রীকে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় অভিনেতা জাহের আলভী কারাগারে জনগণের ভালোবাসা বড় শক্তি, নিরাপত্তা কড়াকড়ি যেন দূরত্ব তৈরি না করে অভিবাসন আইন কঠোর করতে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন শিক্ষা খাতের বরাদ্দের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী বাজেটকে যারা গণবিরোধী বলে তারা জনগণের বন্ধু নয় : তারেক রহমান জনগণের টাকা আর পাচার হতে দেবো না : প্রধানমন্ত্রী দেশের আরও ১০ জেলায় রেল সংযোগ চালু করা হবে : রেলমন্ত্রী

সিআরপি পরিদর্শনে কামাল পাশা: প্রতিবন্ধী সেবায় বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬
  • ৬ Time View

বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে সেন্টার ফর দ্য রিহ্যাবিলিটেশন অব দ্য প্যারালাইজড (সিআরপি) দীর্ঘদিন ধরেই একটি আস্থার নাম। ১৯৭৯ সালে ব্রিটিশ ফিজিওথেরাপিস্ট ড. ভ্যালেরি অ্যান টেইলর (CBE, OBE)-এর উদ্যোগে মাত্র চারজন রোগীকে নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠানটি আজ দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রতিবন্ধী পুনর্বাসন সংস্থায় পরিণত হয়েছে।

বর্তমানে সিআরপি দেশের ১২টি কেন্দ্রে চিকিৎসা, পুনর্বাসন, শিক্ষা, কর্মমুখী প্রশিক্ষণ, কমিউনিটি-ভিত্তিক পুনর্বাসন, গবেষণা এবং প্রতিবন্ধী অধিকার সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত ১,১৮৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশই শারীরিক প্রতিবন্ধী, যা অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসংস্থানের একটি অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে সিআরপি মোট ২ লাখ ৩৫ হাজার ৯৯৮টি ফিজিওথেরাপি, ৫২ হাজার ৮৬৫টি অকুপেশনাল থেরাপি এবং ৪৮ হাজার ৭৭টি স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি সেবা প্রদান করেছে। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পুনর্বাসন কর্মসূচির মাধ্যমে সরাসরি উপকৃত হয়েছেন ১ লাখ ২৯ হাজার ৪৭১ জন মানুষ।

প্রতিষ্ঠানটির অধীনস্থ বাংলাদেশ হেলথ প্রফেশনস ইনস্টিটিউট (BHPI) দেশের অন্যতম স্বনামধন্য অ্যালাইড হেলথ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। এখানে প্রতি বছর ফিজিওথেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি, স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি, নার্সিংসহ বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ স্বাস্থ্য পেশাজীবী তৈরি করা হচ্ছে।

সিআরপির বার্ষিক পরিচালন ব্যয় প্রায় ১০০ কোটি টাকা, যার বড় অংশই দেশি-বিদেশি দাতা সংস্থা, ব্যক্তি ও উন্নয়ন সহযোগীদের অনুদানের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিশেষায়িত পুনর্বাসন সেবার চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে সিআরপির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এই প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি সাভারে সিআরপির প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন করেন অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী সমাজকর্মী ও মানবাধিকারকর্মী কামাল পাশা।

পরিদর্শনকালে তিনি সিআরপির প্রতিষ্ঠাতা ড. ভ্যালেরি অ্যান টেইলর (CBE, OBE) এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মোহাম্মদ সোহরাব হোসেন-এর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে সিআরপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, বাংলাদেশে অ্যালাইড হেলথ পেশাজীবীদের দক্ষতা উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ, গবেষণা এবং অস্ট্রেলিয়া–বাংলাদেশ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

এ সময় কামাল পাশা বাংলাদেশ হেলথ প্রফেশনস ইনস্টিটিউট (BHPI)-এর বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শন করেন এবং শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মানের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ আরও বাড়ানো গেলে বাংলাদেশি অ্যালাইড হেলথ গ্র্যাজুয়েটদের জন্য বৈশ্বিক কর্মক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

আলোচনায় ড. ভ্যালেরি টেইলর বাংলাদেশে Behaviour Management এবং Positive Behaviour Support (PBS)-এর মতো বিশেষায়িত সেবার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ কাঠামো উন্নয়নে কামাল পাশার সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পরিবার ও কেয়ারগিভারদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ চালুর বিষয়েও মতবিনিময় হয়।

বৈঠকে কামাল পাশা Friends of CRP–Australia (FCRP–Australia)-এর অগ্রগতির বিষয় তুলে ধরেন। তিনি জানান, সংগঠনটির আইনি নিবন্ধন ও কমপ্লায়েন্স কার্যক্রম অস্ট্রেলিয়ায় বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ভবিষ্যতে এটি সিআরপির বৈশ্বিক সহযোগী নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে প্রশিক্ষণ, গবেষণা, দক্ষতা বিনিময়, স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম এবং তহবিল সংগ্রহে ভূমিকা রাখবে।

সফরে কামাল পাশার সঙ্গে ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক এবং অতীশ দীপঙ্কর ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি-এর চেয়ারম্যান মো. শামসুল আলম লিটন। দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্যে বসবাসের অভিজ্ঞতার কারণে তিনি সিআরপির প্রতিষ্ঠাতা ড. ভ্যালেরি টেইলরের কর্মযজ্ঞের সঙ্গে গভীরভাবে পরিচিত বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, একজন বিদেশি হয়েও ড. টেইলর আজীবন বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছেন—এটি মানবতার এক অসাধারণ দৃষ্টান্ত। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়লে সিআরপি দেশের আরও প্রত্যন্ত অঞ্চলে সেবা সম্প্রসারণ করতে পারবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সফর শেষে কামাল পাশা বলেন, সিআরপি বাংলাদেশের জন্য একটি গর্বের প্রতিষ্ঠান। তাদের কাজ শুধু পুনর্বাসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রতিবন্ধী মানুষের মর্যাদা, স্বাবলম্বিতা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি সফল মডেল। তিনি আরও বলেন, অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে অ্যালাইড হেলথ, বিহেভিয়ার সাপোর্ট, কেয়ারগিভার প্রশিক্ষণ ও গবেষণায় যৌথ উদ্যোগ ভবিষ্যতে দুই দেশের জন্যই ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে। Friends of CRP–Australia এই সহযোগিতার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, কামাল পাশা বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার National Disability Insurance Scheme (NDIS)-এর একজন Behaviour Support Practitioner। গত ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি মানসিক স্বাস্থ্য ও প্রতিবন্ধী সেবাখাতে কাজ করছেন। পাশাপাশি তিনি NDIS নিবন্ধিত সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কমপ্লায়েন্স, ক্লিনিক্যাল গভর্ন্যান্স, অডিট প্রস্তুতি ও ব্যবসা উন্নয়ন বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী অধিকার, মানসিক স্বাস্থ্য এবং বহুসাংস্কৃতিক কমিউনিটির উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category