শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৫৭ অপরাহ্ন

কার্যকর মধ্যস্থতায় কমতে পারে ৪৫ লাখ মামলার জট: আইনমন্ত্রী

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬
  • ১ Time View

কার্যকর মধ্যস্থতা (মেডিয়েশন) ব্যবস্থা চালু ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের আদালতে বিচারাধীন প্রায় ৪৫ লাখ মামলার জট উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দ্রুত, সাশ্রয়ী ও মানবিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধির লক্ষ্যে মধ্যস্থতা এবং দেওয়ানি মামলা পরিচালনা পদ্ধতির উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘আইন পেশাজীবীদের জন্য মৌলিক মধ্যস্থতা প্রশিক্ষণ’ কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, মধ্যস্থতা এমন একটি বিরোধ নিষ্পত্তির পদ্ধতি, যা বিচারপ্রার্থীদের সময়, অর্থ ও মানসিক ভোগান্তি কমিয়ে দ্রুত ও সাশ্রয়ী ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারে। সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হলো দরিদ্র, প্রান্তিক, সুবিধাবঞ্চিত এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার মানুষের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মাধ্যমে এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, একজন দক্ষ মধ্যস্থতাকারীর জন্য শুধু আইনগত জ্ঞানই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন মানবিকতা, প্রজ্ঞা, ধৈর্য এবং পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে সমাধান তৈরির সক্ষমতা। এ প্রসঙ্গে তিনি অংশগ্রহণকারীদের জাপানের Justice with a Smile গ্রন্থটি পড়ার আহ্বান জানান। তার মতে, এ ধরনের সাহিত্য মধ্যস্থতাকারীদের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, অনেকের ধারণা আইনজীবীরা সমঝোতার পথে যেতে অনাগ্রহী। কিন্তু বাস্তবে দেশে-বিদেশে অসংখ্য সফল মধ্যস্থতা ও সালিশের পেছনে আইনজীবীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আলোচনাভিত্তিক বিরোধ নিষ্পত্তির ইতিবাচক সংস্কৃতি আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় বছরের পর বছর সময়, অর্থ ও শ্রম ব্যয়ের পাশাপাশি মানুষ মানসিক চাপ ও বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার মুখোমুখি হয়। তাই হত্যা ও অন্যান্য গুরুতর আমলযোগ্য অপরাধ ছাড়া অধিকাংশ বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তির সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

মন্ত্রী জানান, প্রকল্পের আওতায় সর্বোত্তম কর্মদক্ষতা প্রদর্শনকারী একজন নারী ও একজন পুরুষ মধ্যস্থতাকারীকে জাপানে উন্নত প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে দেশের মধ্যস্থতাকারীরা আরও দক্ষ, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও পেশাদার হিসেবে গড়ে উঠবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি জাপান সরকার, জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা), কেইও ইউনিভার্সিটি ল স্কুলের অধ্যাপক ও বিশিষ্ট আইনজীবী মিস মাসাকো মিয়াতাকে এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও জাপানের বিদ্যমান সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং ঢাকা-নারিতা রুটে সরাসরি ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং জাইকার যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রকল্প পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব মো. খাদেমউল কায়েস। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জাইকা বাংলাদেশের প্রধান প্রতিনিধি মিস জুনকো তাকাহাশি, জাপানের বিচার মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিভাগের উপমহাপরিচালক কাজুনোরি নোসে এবং বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মনজুরুল হোসেন।

দুই দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণে দেশের বিভিন্ন জেলার জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার এবং জেলা জজ আদালতে কর্মরত আইনজীবীসহ ৪০ জন অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণে মধ্যস্থতার মৌলিক ধারণা, কার্যকর যোগাযোগ, সমঝোতা পরিচালনা, ব্যবহারিক অনুশীলন এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণের মূল প্রশিক্ষক ছিলেন জাপানের কেইও ইউনিভার্সিটি ল স্কুলের অধ্যাপক ও আইনজীবী মিস মাসাকো মিয়াতাকে।

প্রকল্পটির লক্ষ্য বাংলাদেশে মধ্যস্থতা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিচারপ্রার্থীদের জন্য সহজ, দ্রুত ও সাশ্রয়ী ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category