সুদানের উত্তর দারফুর অঞ্চলের ‘গারা আল-জাওয়াইয়া’ গ্রামে একটি গ্রামীণ আদালতের চত্বরে সেনাবাহিনীর ড্রোন হামলায় অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। এতে আরো বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক গুরুতর আহত হয়েছেন।
রোববার (২ আগস্ট) স্থানীয় সময় দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা) উত্তর দারফুর রাজ্যের ‘গারা আল-জাওয়াইয়া’ গ্রামের একটি প্রথাগত আদালতে এ হামলা চালানো হয়।
মানবাধিকার সংগঠন ‘ইমার্জেন্সি লয়ার্স’ জানিয়েছে, স্থানীয় বিরোধ নিষ্পত্তির শুনানিতে অংশ নিতে জড়ো হওয়া বেসামরিক মানুষের ওপর এই হামলা চালানো হয়।
সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, রোববার উত্তর দারফুর রাজ্যের গারা আল-জাওয়াইয়া গ্রামে স্থানীয় সময় দুপুরে হামলাটি ঘটে। ওই সময় একটি ঐতিহ্যবাহী আদালতে স্থানীয় মামলা ও বিরোধের শুনানি চলছিল এবং সেখানে বহু মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
ইমার্জেন্সি লয়ার্স জানায়, হামলায় আদালত ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় ও উপজাতীয় বিরোধ নিষ্পত্তির গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর বিচারকার্য পরিচালনা করে আসছিল।
নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, একটি গাছের নিচে সম্প্রদায়ের নেতাদের উপস্থিতিতে আদালতের কার্যক্রম চলছিল। তার দাবি, নিহতদের মধ্যে চারজন উপজাতীয় নেতা এবং দুজন র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর কমান্ডার ছিলেন।
গারা আল-জাওয়াইয়া গ্রামটি আরএসএফের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় অবস্থিত। ২০২৩ সালের এপ্রিলে সুদানের সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান ও আরএসএফ প্রধান মোহাম্মদ হামদান দাগালোর বাহিনীর মধ্যে সংঘাত শুরুর পর দেশটিতে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ চলছে।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসেই ড্রোন হামলায় এক হাজারের বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। দীর্ঘ এই সংঘাতে লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং সুদান বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মানবিক সংকটের মুখোমুখি।