সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ০৩:৪২ অপরাহ্ন

বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মুস্তাফা মনোয়ার মারা গেছেন

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬
  • ১০ Time View

বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও চিত্রশিল্পী, পাপেট নির্মাতা মুস্তাফা মনোয়ার মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সোমবার (২৯ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর।

জানা গেছে, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ জুন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন মুস্তাফা মনোয়ার। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। কয়েক দিন আগে তার ভেন্টিলেটর সাপোর্ট খুলে নেওয়া হয়েছিল। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আবারও ভেন্টিলেটরে নেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, ১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর যশোরের শ্রীপুরে জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। নারায়ণগঞ্জ গভর্নমেন্ট স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করার পর তিনি কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। তবে পরে চারুকলার প্রতি আগ্রহ থেকে কলকাতা সরকারি চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৫৯ সালে সেখান থেকে ফাইন আর্টসে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন।

১৯৬৫ সালে মেরী মনোয়ারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের এক ছেলে সাদাত মনোয়ার ও এক মেয়ে নন্দিনী মনোয়ার।

কর্মজীবনের শুরুতে তিনি পূর্ব পাকিস্তান চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। পরে বাংলাদেশ টেলিভিশনের উপ-মহাপরিচালক, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক, জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ টেলিভিশন ঢাকার জেনারেল ম্যানেজার এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়াও জনবিভাগ উন্নয়ন কেন্দ্রের চেয়ারম্যান এবং এডুকেশনাল পাপেট ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের প্রকল্প পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

শিল্পকলায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন মুস্তাফা মনোয়ার। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি আরও বহু সম্মাননা ও পুরস্কার অর্জন করেন। এর মধ্যে রয়েছে ১৯৯০ সালে টিভি নাটকে অবদানের জন্য টেনাশিনাস পদক, ১৯৯২ সালে চারুশিল্পে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ পুরস্কার, ১৯৯৯ সালে শিশু শিল্পকলা কেন্দ্র (কিডস কালচারাল ইনস্টিটিউট), চট্টগ্রামের কিডস সম্মাননা পদক এবং ২০০২ সালে চিত্রশিল্প, নাট্য নির্দেশনা ও পাপেট নির্মাণে বিশেষ অবদানের জন্য শিশুকেন্দ্রের বিশেষ সম্মাননা।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category