বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ০২:১৮ পূর্বাহ্ন

নয়াদিল্লির হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: নিহত অন্তত ২১, জীবিত উদ্ধার ৪০-এর বেশি

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬
  • ২১ Time View

ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লির মালভিয়া নগর এলাকায় অবস্থিত ‘ফ্লাওয়ারিশ স্টে’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ৪০ জনেরও বেশি মানুষকে জীবিত উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

বুধবার (৩ জুন) সকালে স্থানীয় সময় আনুমানিক ৮টা ৪৫ থেকে ৯টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে ভবনের নিচতলায় অবস্থিত একটি রেস্টুরেন্টে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ও ঘন কালো ধোঁয়া পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। পরে আগুন পাশের ‘মিকাসা ইন’ হোটেলেও ছড়িয়ে পড়ে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় অনেক মানুষ ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন। প্রাণ বাঁচাতে কয়েকজনকে ওপরের তলা থেকে লাফ দিতে দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা নিচে গদি ও অন্যান্য সামগ্রী বিছিয়ে আটকে পড়াদের সাহায্যের চেষ্টা করেন। টেলিভিশন ফুটেজে ভবন থেকে আগুনের লেলিহান শিখা ও ঘন ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে।

দমকল বাহিনী, পুলিশ ও জরুরি উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। একাধিক অগ্নিনির্বাপক ইউনিট ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে অনেকেই দগ্ধ ও ধোঁয়াজনিত শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হওয়ায় তাদের নিকটস্থ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, ভবনের নিচতলার রেস্তোরাঁ থেকেই আগুনের উৎপত্তি। এছাড়া ভবনটিতে পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কি না এবং জরুরি নির্গমন পথের সংখ্যা যথেষ্ট ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভবনটিতে কার্যত একটি মাত্র প্রবেশ ও নির্গমন পথ ছিল, যা হতাহতের সংখ্যা বাড়ার অন্যতম কারণ হতে পারে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। একই সঙ্গে নিহতদের স্বজনদের জন্য আর্থিক সহায়তা ঘোষণাও করা হয়েছে।

ভারতের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে এই ঘটনাকে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং কোনো ধরনের অবহেলা বা নিরাপত্তা বিধি লংঘনের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category