বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০৫:৩১ অপরাহ্ন

ফল প্রকাশের পর পশ্চিমবঙ্গজুড়ে সহিংসতা, নিহত ৪

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ৬ মে, ২০২৬
  • ৮ Time View
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরপরই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নতুন করে রাজনৈতিক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। নির্বাচনের আগে বা ভোটগ্রহণের দিন বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলেও, ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে সংঘর্ষ ও প্রাণহানির খবর আসতে শুরু করেছে।
উত্তর ২৪ পরগণার সন্দেশখালির ন্যাজাটে দুই রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে ওসিসহ তিন পুলিশ সদস্য গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার জেরে অন্তত চারজন প্রাণ হারিয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
সহিংসতার ঘটনায় বীরভূমের নানুর থানার সন্তোষপুর গ্রামে তৃণমূল কংগ্রেসের বুথ সভাপতি আবির শেখকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ বিষয়ে মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
অন্যদিকে কলকাতার বেলেঘাটায় নির্বাচনের দিন তৃণমূলের এক বুথ এজেন্টকে হত্যার অভিযোগও সামনে এসেছে। পাল্টা অভিযোগ উঠেছে বিজেপির পক্ষ থেকেও। নিউ টাউন এবং হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে পৃথক ঘটনায় দুইজন বিজেপি কর্মী খুন হয়েছেন বলে দাবি করেছে দলটি। এই ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
রাজনৈতিক দলগুলো একে অপরের বিরুদ্ধে তান্ডব চালানোর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলছে। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় তাদের দলীয় কার্যালয়গুলো দখল এবং ভাঙচুর করা হচ্ছে। এছাড়া নিউ মার্কেট এলাকায় বিজেপি কর্মীরা বুলডোজার নিয়ে একটি মাংসের দোকান গুঁড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে বলেও অভিযোগ করেছে দলটি।
অন্যদিকে সন্দেশখালির ন্যাজাটে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে যাওয়া পুলিশের ওপর গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। ন্যাজাট থানার ওসি এবং দুই কনস্টেবল বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং ব্যাপক পুলিশি টহল বসানো হয়েছে।
ভোট পরবর্তী এই সহিংসতা ঠেকাতে নির্বাচনের আগেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, কেন্দ্রীয় বাহিনী আরও দুই মাস পশ্চিমবঙ্গে অবস্থান করবে। তবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতেই এই ধরনের প্রাণহানি ও সংঘর্ষের ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এই ঘটনাগুলোকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন এবং অবিলম্বে অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাজ্য প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন। রাজ্যের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: আনন্দবাজার

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category