শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩৮ অপরাহ্ন

রাজধানীতে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে নারী-শিশুসহ দগ্ধ ১০

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬
  • ৫৮ Time View
25

রাজধানীর উত্তরায় একটি আবাসিক ভবনে গ্যাসের পাইপলাইনের লিকেজ থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই শিশু ও এক অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ একই পরিবারের ১০ জন দগ্ধ হয়েছেন।

শুক্রবার (৬ মার্চ) ভোরে কামারপাড়ার ১০ নম্বর সেক্টরের একটি ভবনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দগ্ধদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

বিস্ফোরণে দগ্ধরা হলেন– রুবেল (৩০), তার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা সোনিয়া আক্তার (২৫), মেয়ে রোজা (৩), সোনিয়ার বড় বোন রিয়া (২৭), রুবেলের চাচাতো ভাই দুবাইপ্রবাসী এনায়েত (৩২), তার স্ত্রী দেলেরা (২৮), ছেলে জুনায়েদ (১০), এনায়েতের ছোট ভাই হাবিব (৩০), ভাগনি আয়েশা (১৯) এবং রুবেল (৩৫)।

স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কামারপাড়ার ১০ নম্বর সেক্টরের কবরস্থান রোডের মেম্বার বাড়ির পাশে আবুল কালামের মালিকানাধীন ভবনের দ্বিতীয় তলায় এই বিস্ফোরণ ঘটে। দগ্ধদের স্বজন সাজেদ মাতব্বর জানান, দ্বিতীয় তলার ওই বাসায় সপরিবার থাকেন রাইড শেয়ারিং চালক রুবেল। তার চাচাতো ভাই এনায়েত দুবাই থেকে দেশে ফিরে গ্রাম থেকে সপরিবার রুবেলের বাসায় বেড়াতে এসেছিলেন। তাদের বাড়ি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায়।

একই ভবনের চারতলায় থাকা সাজেদ মাতব্বর বলেন, ‘ভোরে বিকট শব্দ শুনে নিচে নেমে দেখি, নিচতলা ও দ্বিতীয় তলার দেয়াল ভেঙে গেছে। ঘরের ভেতর থাকা ১০ জনই দগ্ধ হয়েছেন। তাদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।’

জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান দগ্ধদের শারীরিক অবস্থার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দগ্ধদের মধ্যে সোনিয়া আক্তারের শরীরের ১০০ শতাংশই পুড়ে গেছে। এ ছাড়া এনায়েত আলীর ৪৫ শতাংশ, রিয়া আক্তারের ৩২ শতাংশ, রুবেলের (৩০) ৩২ শতাংশ, শিশু রোজার ১৮ শতাংশ, জুনায়েদের ২৪ শতাংশ, দেলেরা খাতুনের ১৪ শতাংশ, রুবেলের (৩৫) ৭ শতাংশ, হাবিবের ১৯ শতাংশ এবং আয়েশা আক্তারের ১২ শতাংশ শরীর দগ্ধ হয়েছে।

ডা. শাওন আরও জানান, যাদের শরীরে দগ্ধের পরিমাণ বেশি, তাদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়েছে। বাকিরা বর্তমানে পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। প্রয়োজনে তাদেরও আইসিইউতে নেওয়া হতে পারে।

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রোজিনা আক্তার জানান, বিস্ফোরণের খবর পেয়ে দ্রুত দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তবে ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই বাসার লোকজন আগুন নিভিয়ে ফেলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গিজার বা গ্যাসের লাইনের লিকেজ থেকে এই বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category