ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি-এর ছেলে মোজতবা খামেনি দেশটির নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। ‘Assembly of Experts’–এর মাধ্যমে তার এই নির্বাচন সম্পন্ন হয়। বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর সমর্থন তার নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
১৯৬৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বর মাশহাদে জন্ম নেওয়া মোজতবা খামেনি দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। মাধ্যমিক শিক্ষা শেষে তিনি আইআরজিসিতে যোগ দেন এবং ইরান-ইরাক যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে সম্পৃক্ত ছিলেন। পরে কোমের ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্রে উচ্চতর পড়াশোনা করেন এবং শিক্ষকতাও করেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি মূলত ‘অফিস অব দ্য সুপ্রিম লিডার’-এর কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন। সামরিক ও রাজনৈতিক মহলে বিস্তৃত যোগাযোগের কারণে তাকে ইরানের অন্যতম ‘পাওয়ার ব্রোকার’ হিসেবে দেখা হতো। ২০০৫ ও ২০০৯ সালের নির্বাচনে মাহমুদ আহমাদিনেজাদ-এর বিজয়ে নেপথ্য ভূমিকার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
২০০৯ সালের নির্বাচন-পরবর্তী আন্দোলন এবং ২০২২ সালে জিনা মাহসা আমিনি-এর মৃত্যুর পর সৃষ্ট বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর কৌশল নির্ধারণে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচিত হয়। ২০২২ সালের আগস্টে কোমের একটি ধর্মীয় সূত্র তাকে ‘আয়াতুল্লাহ’ উপাধিতে ভূষিত করে—যা অনেকের মতে তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হওয়ার ইঙ্গিত বহন করেছিল।
৫৬ বছর বয়সে মোজতবা খামেনি এমন এক সময়ে দায়িত্ব নিলেন, যখন ইরান আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এতদিন পর্দার আড়ালে থেকে প্রভাব বিস্তার করলেও, এখন তাকে সরাসরি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব সামলাতে হবে—যা দেশটির রাজনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন দিক নির্দেশ করতে পারে।