সিডনির হাসলগ্রোভ নিবাসী বিশিষ্ট কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব মিসেস লায়লা হক ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি বাংলাদেশে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বাংলাদেশে অবস্থানকালে তিনি হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাকে আর সিডনিতে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।
মিসেস লায়লা হক মরহুম ড. হক সাহেবের সহধর্মিণী। মৃত্যুকালে তিনি এক ছেলে, এক মেয়ে, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।
কমিউনিটি অঙ্গনে লায়লা হক ছিলেন অত্যন্ত সুপরিচিত ও সম্মানিত এক নাম। তিনি ক্যান্সার কাউন্সিলসহ বিভিন্ন সামাজিক ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। সিডনির প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ কমিউনিটি উদ্যোগে স্বামীসহ তাকে একসঙ্গে কাজ করতে দেখা গেছে।
তাদের উদ্যোগেই নিউ সাউথ ওয়েলস ক্যান্সার কাউন্সিলের জন্য ‘গুড মর্নিং বাংলাদেশ’ ব্রেকফাস্ট আয়োজনের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ করা হয়, যেখানে বাংলাদেশি কমিউনিটি দ্বিতীয় বৃহত্তম ডোনার হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। এছাড়াও কোয়েকার্স হিল মসজিদ নির্মাণে তাদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শুধু অস্ট্রেলিয়ায় নয়, বাংলাদেশেও ক্যান্সার হাসপাতালের জন্য তহবিল সংগ্রহে লায়লা হককে স্বামী ড. হকের সঙ্গে কমিউনিটির সকলকে নিয়ে কাজ করতে দেখা গেছে যা তাকে একজন নিবেদিতপ্রাণ মানবসেবী হিসেবে আলাদা মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে।
তার মৃত্যুতে সিডনির বাংলাদেশি কমিউনিটি একজন অভিভাবকতুল্য মুরব্বী ও মানবিক নেতৃত্বকে হারালো বলে মন্তব্য করেছেন অনেকেই।
মরহুমার রূহের মাগফিরাত কামনা করে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে কমিউনিটির পক্ষ থেকে দোয়া প্রার্থনা করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন।