অস্ট্রেলিয়ার বহুসাংস্কৃতিক সমাজে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ব্যবসায়িক সম্ভাবনাকে আরও বৃহৎ পরিসরে তুলে ধরতে সিডনিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম বৃহৎ বহুসাংস্কৃতিক আয়োজন ‘স্প্রিং ফেয়ার ২০২৬’। চট্টগ্রাম ক্লাব অস্ট্রেলিয়া ইনক.-এর উদ্যোগে আগামী ১১ অক্টোবর সিডনির ফেয়ারফিল্ড শোগ্রাউন্ডে দিনব্যাপী এ উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, সিডনির অন্যতম বৃহৎ এই বহুসাংস্কৃতিক উৎসবে ১৫ হাজারের বেশি দর্শনার্থীর সমাগম ঘটবে। বাংলাদেশি কমিউনিটির পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবটি একটি প্রাণবন্ত বহুসাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।
‘স্প্রিং ফেয়ার ২০২৬’-এর টিকিট উন্মোচন উপলক্ষে ৬ সেপ্টেম্বর (রবিবার) সন্ধ্যায় সিডনির মিন্টোতে অবস্থিত সৈয়দ পার্টনার্সের কার্যালয়ে এক টিকিট উন্মোচন ও প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আয়োজক কমিটির সদস্য, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ১১ অক্টোবর সকাল ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মোট ১১ ঘণ্টাব্যাপী এ উৎসব চলবে। এ উপলক্ষে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
উৎসবে বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে বিশেষভাবে তুলে ধরা হবে। বাংলাদেশ থেকে আগত অতিথি শিল্পীদের পাশাপাশি সিডনিতে বসবাসরত স্থানীয় শিল্পী এবং অস্ট্রেলিয়ায় বেড়ে ওঠা বাংলাদেশি নতুন প্রজন্মের শিশু-কিশোররা সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেবে। থাকবে সংগীত, নৃত্যসহ নানা ধরনের বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।
শুধু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানই নয়, উৎসবকে ঘিরে থাকবে দেশি-বিদেশি খাবারের সমাহার, বিভিন্ন পণ্যের স্টল, কেনাকাটা, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ, শিশুদের বিনোদন এবং পরিবারের সদস্যদের জন্য নানা আয়োজন। ফলে পুরো দিনজুড়ে ফেয়ারফিল্ড শোগ্রাউন্ডে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
‘স্প্রিং ফেয়ার ২০২৬’-এর প্রবেশ টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার। তবে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য প্রবেশ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। এছাড়া সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিভিন্ন রাইড বিনামূল্যে উপভোগের সুযোগ থাকবে।
আয়োজকরা পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে ‘স্প্রিং ফেয়ার ২০২৬’-এ অংশ নেওয়ার জন্য সবাইকে আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, এ ধরনের আয়োজন শুধু বিনোদনের সুযোগই তৈরি করে না, বরং প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের সঙ্গে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের যোগসূত্র আরও দৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার মূলধারার সমাজে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, খাদ্য, ঐতিহ্য ও ব্যবসায়িক সম্ভাবনাকে তুলে ধরার ক্ষেত্রেও ‘স্প্রিং ফেয়ার ২০২৬’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন আয়োজকরা।
চট্টগ্রাম ক্লাব অস্ট্রেলিয়া ইনক.-এর উদ্যোগে আয়োজিত এবারের স্প্রিং ফেয়ারকে ঘিরে ইতোমধ্যে সিডনির বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণে এবারের আয়োজন সিডনির বহুসাংস্কৃতিক উৎসবের তালিকায় একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
ছবি ও তথ্য: টিম প্রেস অস্ট্রেলিয়া (বাংলাদেশি অস্ট্রেলিয়ান জার্নালিস্টস গ্রুপ)