রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

বিএনপি রাজপথে ছিল, গুপ্ত অবস্থায় কিছু করেনি : তারেক রহমান

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৩ Time View
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি রাজপথে ছিল, গুপ্ত অবস্থায় কিছু করেনি।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি রাজপথে ছিলো, গুপ্ত অবস্থায় কিছু করেনি। বিএনপি সবসময় বুক চিতিয়ে মানুষের দাবি নিয়ে সোচ্চার ছিল।
এ সময় জ্বালানি সংকটের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত কিছুদিন ধরে খেয়াল করছি, যেসব সমস্যা আমরা ইনহেরিট করেছি, স্বৈরাচার আমলেই হোক অথবা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রেখে যাওয়া সমস্যাই হোক না কেন, সবগুলোই সমাধানের চেষ্টা করছি। সমস্যা নেই, তা কখনোই বলছি না। অবশ্যই বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমস্যা আছে। কিন্তু সমস্যাগুলোকে পুঁজি করে কিছু রাজনৈতিক দল এবং কিছু ব্যক্তি বিভিন্নভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। এর মাধ্যমে দেশে অরাজকতা তৈরি করার চেষ্টা করছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই যে, বাংলাদেশের জনগণ এই সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছে দেশ পরিচালনা করার। অবশ্যই আমরা গণতন্ত্রের ধারাকে সমুন্নত রাখবো। গণতান্ত্রিক নীতি-নৈতিকতাগুলো আপহোল্ড করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।
একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কেউ যদি অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়; সেটিকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে তা দেশের আইনে বলে দেওয়া আছে। কাজেই জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার হিসেবে পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, প্রত্যেকের নিজেদের সীমার মধ্যে থাকা দরকার।
দেশের প্রতিটি সংকটকালীন মুহূর্তে বিএনপি জনগণের পাশে ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকটি সংকটকালীন মুহূর্তে বিএনপি নামক রাজনৈতিক দলটি নেতাকর্মী ও দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য পরিশ্রম করেছে। সংকট থেকে ধীরে ধীরে দেশকে বের করেও নিয়ে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, আজকে যেহেতু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এই মুহূর্তে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আছে। শিল্পকারখানার মালিকসহ বহু সাধারণ মানুষ যারা বিদ্যুৎ ও জ্বালানির কষ্টে রয়েছেন, তাদের সকলের কাছে আমি দলের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করছি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এই মুহূর্তে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আছে। শিল্পকারখানার মালিকসহ বহু সাধারণ মানুষ যারা বিদ্যুৎ ও জ্বালানির কষ্টে রয়েছেন, তাদের সকলের কাছে আমি দলের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করছি। আগামীতে যেন দেশের মানুষকে এই জ্বালানি সংকটে পড়তে না হয়, সেভাবেই কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছে বিএনপি।
স্বৈরাচারী শাসনামলে কিছু রাজনৈতিক দল ‘গুপ্ত’ বেশ ধারণ করে স্বৈরাচারের ভেতরে লুকিয়ে ছিল। বর্তমানে তারাই বিভ্রান্তি ছড়িয়ে অরাজকতা উসকে দিচ্ছে কিনা—এমন প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচার আমলে দেখেছি একটি রাজনৈতিক দল গুপ্ত বেশ ধারণ করেছিল। তারা স্বৈরাচারের ভেতরে লুকিয়েছিল। পরবর্তীতে আমরা দেখছি তাদের নিজেদের লোকজনই বেরিয়ে এসে তা স্বীকার করেছে।
দেশের জনগণকে সতর্ক করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমনও তো হতে পারে যে, যে গুপ্তরা স্বৈরাচারের আড়ালে লুকিয়ে ছিল; এখন হয়তো তাদের ভেতরে স্বৈরাচারীরা লুকিয়ে থেকে এই অরাজকতা উসকে দিতে চাইছে। যদি তাই হয়, তাহলে তো বলতে হবে, গুপ্তরাই স্বৈরাচারকেই আবার সামনে নিয়ে আসার কাজ করছে। কারণ, কয়েকদিন আগে আমরা দেখলাম, গুপ্তদের এক নেতা বলেছে যে, তারা এলে আমাদের আপত্তি নেই। তাহলে তো দেখাই যাচ্ছে, উভয় পক্ষ একজন আরেকজনকে নানাভাবে গুপ্ত রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসুন আমরা জনগণকে আরও সচেতন করি। কে কাকে মুক্ত করার দায়িত্ব নিচ্ছে, সেটি জনগণের সামনে উন্মুক্ত করে দেই। কারণ, এই গুপ্ত বাহিনী ৭১ সাল থেকে বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ বিভিন্ন সময়-অসময়ে একজন আরেকজনকে আড়াল করেছে। একজন আরেকজনকে আশ্রয় দিয়েছে। কাজেই আজ তাদের এই রাজনীতি জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।
দেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষাকারী দলের নাম বিএনপি বলেও উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার যদি কেউ নিশ্চিত করে থাকে, সেই রাজনৈতিক দলটির নাম বিএনপি। সে কারণেই প্রত্যেকটি নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এদেশের মানুষের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়েছে। এখন আমরা এমন একটি মানবিক রাষ্ট্র তৈরি করতে চাই, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত হবে।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা থেকে শুরু করে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তন, রেমিট্যান্স ও তৈরি পোশাক (গার্মেন্টস) শিল্পের বিকাশ এবং নারীদের অবৈতনিক শিক্ষা চালু—সবকিছুর পেছনেই জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপির যুগান্তকারী অবদান রয়েছে।
তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারীদের অবৈতনিক শিক্ষার ব্যবস্থা করে দেশ গঠনে তাদের সম্পৃক্ত করেছিলেন। এছাড়াও তিনি দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনেন এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন, যা পরবর্তীতে দেশকে একটি উদীয়মান টাইগার হিসেবে পরিচিতি দেয়।
সংকট মোচনে বিএনপির অবদান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের পর দেশকে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা এবং ৯০-এর স্বৈরাচার-পরবর্তী সময়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি ও দুর্নীতির কলঙ্ক থেকে দেশকে মুক্ত করে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে বিএনপির ভূমিকা অনস্বীকার্য।
গত ১৬-১৭ বছরে সরকারের অন্যায়-অত্যাচার এবং নির্যাতনের পরেও বিএনপি রাজপথে থেকে আন্দোলন পরিচালনা করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনের মূল ‘মাস্টারমাইন্ড’ এবং সফলতা অর্জনের পূর্ণ কৃতিত্ব এ দেশের আমজনতার। তাদের সঙ্গে থেকে বিএনপি এই লড়াই সফল করেছে।
এর আগে, বিকেল পৌনে ৪টায় তিনি সেখানে পৌঁছান। এ সময় সড়কে অবস্থান নেওয়া নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগানে তাকে বরণ করে নেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ দলের প্রয়াত নেতাকর্মীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত রয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ও এলজিআরডি মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা।
এর আগে গত ৩০ আগস্ট এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category