যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রানওয়ে থেকে ছিটকে অ্যামাজনের একটি কার্গো বিমান দুর্ঘটনার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। রোববারের এ দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ডের (এনটিএসবি) চেয়ারওম্যান জেনিফার হোমেন্ডি সোমবার জানান, নিহত পাঁচজনই একটি পরিচ্ছন্নতা প্রতিষ্ঠানের কর্মী বহনকারী একটি ভ্যানের ভেতরে ছিলেন। ওই ভ্যানে মোট সাতজন ছিলেন। বিমানটি বিমানবন্দরের সীমানার বাইরে থাকা একটি এসইউভিতেও আঘাত করে। তবে ওই গাড়িতে কতজন ছিলেন, তা নিশ্চিত করেননি তিনি।
দুর্ঘটনাস্থলকে ‘পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত’ হয়েছে বলে বর্ণনা করেন হোমেন্ডি। তিনি বোয়িং ৭৬৭ বিমানটির রানওয়ে থেকে ছিটকে যাওয়ার পথ পরিদর্শন করেন। সেখানে রানওয়ের ওপর থেকে ঘাসের দিকে চলে যাওয়া টায়ারের দাগ, বিধ্বস্ত ভ্যান, ছেঁড়া বেড়া, নেভিগেশন সরঞ্জাম এবং বিমানবন্দরের বাইরে ক্ষতিগ্রস্ত এসইউভি দেখতে পান তিনি।
হোমেন্ডি জানান, দুর্ঘটনাস্থলে বিভিন্ন যানবাহনের এয়ারব্যাগ, গাড়ি ও বিমানের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ এবং বিমানবন্দরের সরঞ্জাম ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। চারদিকে ছড়িয়ে ছিল বেড়ার ধ্বংসাবশেষও।
তিনি বলেন, দুর্ঘটনার ক্ষয়ক্ষতি ছিল ব্যাপক। উদ্ধারকর্মীদের জন্যও ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এনটিএসবি কর্মকর্তারা দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছেন। তদন্তে বিমানটি রানওয়ের নির্ধারিত অংশের কতটা পরে অবতরণ করেছিল এবং অবতরণের পর নিয়ন্ত্রণ হারানোর কোনো কারণ ছিল কি না, সেসব বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে।
এদিকে দুর্ঘটনার পর মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব রানওয়ে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। অ্যামাজনের কার্গো বিমানটি রানওয়ের পাকা অংশ শেষ হওয়ার পর আরও প্রায় ১ হাজার ৩০০ ফুট (৩৯৬ মিটার) এগিয়ে গিয়ে বিভিন্ন যানবাহনে আঘাত করে এবং আগুন ধরে যায়।