বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৯ পূর্বাহ্ন

স্পেনে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষ, নিহত বেড়ে ৬৮

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৩ Time View
স্পেনের টলেডোর কাছে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৮ জনে দাঁড়িয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৯টার কিছু পর এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে মাদ্রিদ থেকে দক্ষিণাঞ্চলীয় আন্দালুসিয়া অঞ্চলের সঙ্গে সংযোগকারী রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
কাস্তিয়া-লা মাঞ্চা অঞ্চলের সরকার নিহতের এ সংখ্যা নিশ্চিত করেছে। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকাজ শুরু হয়। তবে ট্রেনের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বগিগুলোতে উদ্ধারকারীরা পুরোপুরি পৌঁছাতে না পারায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আঞ্চলিক সরকারের প্রেসিডেন্ট এমিলিয়ানো গার্সিয়া-পেজ জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত হতাহতদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সব ধরনের জরুরি ও স্বাস্থ্যসেবা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলো থেকেও সহায়তার প্রস্তাব এসেছে।
তিনি এর আগে জানিয়েছিলেন, রাষ্ট্রীয় রেল সংস্থা রেনফের ট্রেনে ২৪ জন এবং বেসরকারি সংস্থা ইরিওর ট্রেনে ছয়জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে প্রায় ৩০ জন সামান্য আঘাত পেয়েছেন, প্রায় ৫০ জন বিভিন্ন মাত্রায় আহত হয়েছেন এবং কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
সংকেতের ত্রুটি থেকে দুর্ঘটনা?
দুর্ঘটনার কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। তবে এ বিষয়ে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, রেল অবকাঠামো ব্যবস্থাপক আদিফের নির্দেশে সংকেতের ত্রুটির কারণে ইরিওর দ্রুতগতির ট্রেনটি টলেডোর কাছে রেললাইনে থেমে ছিল। এ সময় রাষ্ট্রীয় রেল সংস্থা রেনফের আরেকটি দ্রুতগতির ট্রেন সেটিতে ধাক্কা দেয়।
দুর্ঘটনার বিষয়ে মন্তব্য জানতে রয়টার্সের পক্ষ থেকে রেনফে ও ইরিওর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
‘মনে হচ্ছিল আসন থেকে ছিটকে আকাশে উড়ছিলাম’
দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজের পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্স, হেলিকপ্টার, স্থানীয় ও জাতীয় পুলিশ, দমকলকর্মী এবং মরদেহ পরিবহনের গাড়ি দেখা গেছে। আহত না হওয়া বহু যাত্রীকে তাদের লাগেজ নিয়ে কাছের সড়ক দিয়ে হেঁটে যেতে দেখা যায়।
ইরিওর ট্রেনের যাত্রী ফিলিপাইনের পর্যটক ফ্রেডেরিক বারিলেইয়া ও তার স্ত্রী দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যান। তিনি বলেন, ‘আমরা হতবাক। মনে হচ্ছিল, আমি যেন আসন থেকে ছিটকে আকাশে উড়ছিলাম।’
ট্রেনের দরজা স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যাওয়ায় তারা নিজেরাই বেরিয়ে আসতে পেরেছিলেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের বগিতে যাত্রীরা সামান্য আহত হন। তবে দুর্ঘটনাস্থলের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিপর্যয়ের ভয়াবহতা তুলে ধরছে।
নির্বাচনের আগে চাপে স্পেনের সরকার
এ দুর্ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন স্পেনে আগাম জাতীয় নির্বাচন হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ আগামী ২৯ নভেম্বর নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছেন। আবাসন সংকট মোকাবেলায় নেওয়া দুটি অধ্যাদেশ পার্লামেন্টে পাস না হওয়া এবং এ নিয়ে দেশজুড়ে বিক্ষোভের পর তিনি আগাম নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেন।
জনমত জরিপগুলোতে সানচেজের নেতৃত্বাধীন সোশ্যালিস্ট পার্টি পিছিয়ে রয়েছে। ফলে নতুন এই দুর্ঘটনা তার সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এর আগে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে আদামুজে একই রেল পরিচালনাকারী সংস্থাগুলোর দ্রুতগতির ট্রেনের মধ্যে আরেকটি ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ৪৬ জন নিহত হয়েছিলেন। ওই দুর্ঘটনার পর সরকারের প্রতিক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার মুখে পড়েন পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে। তার পদত্যাগের দাবিও ওঠে।
বুধবারের দুর্ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত জানাতে মাদ্রিদে স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে পরিবহনমন্ত্রী পুয়েন্তের। দুর্ঘটনার কারণ ও হতাহতের সর্বশেষ তথ্য নিয়ে তার বক্তব্যের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র : রয়টার্স

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category