আমাদের কথা ডেস্ক, সিডনি:
বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। বৈশাখী মেলা যেমন বাঙালির প্রাণের উৎসব, তেমনি বসন্তও বাঙালির কাছে রঙ, ফুল, গান আর ভালোবাসার এক অন্যরকম অনুভূতি। বাংলার মেয়ের কাছে বৈশাখের রঙিন সাজ যেমন প্রিয়, তেমনি প্রিয় বসন্তের ফুল আর বাসন্তী রঙ। দেশ থেকে হাজার মাইল দূরে প্রবাসের ব্যস্ত জীবনেও তাই বাঙালি তার শিকড়ের উৎসব আর সংস্কৃতির রঙটুকু সঙ্গে নিয়েই পথ চলে।

সিডনিতে বহু বছর ধরে ছোট-বড় নানা আয়োজনে বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এবার বসন্তকে ঘিরে হতে যাচ্ছে ভিন্ন এক আয়োজন। আগামী ১১ অক্টোবর, রবিবার, সিডনির Fairfield Showground, Prairiewood-এ বৃহৎ পরিসরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘CCA Spring Fair 2026—বসন্ত উৎসব’। চট্টগ্রাম ক্লাব অস্ট্রেলিয়া ইনক (CCA)-এর আয়োজনে সকাল ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে দিনব্যাপী এই উৎসব।

আসন্ন এই আয়োজনের বিস্তারিত গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরতে বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় লাকেম্বায় সাংবাদিক ও কমিউনিটি মিডিয়ার প্রতিনিধিদের নিয়ে CCA আয়োজন করে ‘Press Meet & Greet’। বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক, কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং আয়োজক সংগঠনের সদস্যদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত মতবিনিময়ের একটি পর্ব।
সংগঠনের সভাপতি সাইফুল হাসান চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ রুমেলের সঞ্চালনায় আয়োজকেরা স্প্রিং ফেয়ারের পরিকল্পনা ও নানা আয়োজনের কথা তুলে ধরেন। সাবেক সভাপতি সৈয়দ আকরামউল্লাহ সংবাদ সম্মেলনে সিসিএর সাবেক সভাপতি সৈয়দ আকরামউল্লাহ আসন্ন ‘CCA Spring Fair 2026-বসন্ত উৎসব’-এর সার্বিক প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। উৎসবের সাংস্কৃতিক আয়োজন, শিশুদের বিনোদন, খাবার ও বিভিন্ন স্টল, দর্শনার্থীদের সুযোগ সুবিধাসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি আলোচনা করেন। এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও জবাব দেন তিনি বিভিন্ন দিক সম্পর্কে।পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন আয়োজকেরা।
আয়োজকেরা জানান, CCA Spring Fair কেবল একটি উৎসব বা বিনোদনের আয়োজন নয়, প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করা এবং একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার বহুসাংস্কৃতিক সমাজের মানুষের সামনে বাঙালির সমৃদ্ধ সংস্কৃতিকে তুলে ধরাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

তারা বলেন, একটি উৎসবের মধ্য দিয়ে যখন বিভিন্ন বয়স, ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষ একই প্রাঙ্গণে একত্রিত হন, তখন শুধু আনন্দই ভাগাভাগি হয় না মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ, সম্প্রীতি এবং কমিউনিটির বন্ধনও আরও দৃঢ় হয়। সেই ভাবনা থেকেই এবারের বসন্ত উৎসবকে বাংলাদেশি কমিউনিটির গণ্ডি ছাড়িয়ে বৃহত্তর বহুসাংস্কৃতিক সমাজের একটি মিলনমেলায় রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে বাংলাদেশ থেকে আগত এবং প্রবাসী শিল্পীদের অংশগ্রহণে থাকছে বিশেষ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। পোস্টারে ঘোষিত শিল্পীদের মধ্যে রয়েছেন প্রিয়াঙ্কা, শিথি, তরু, রবি চৌধুরী ও বাউল সাগর এবং কিবোর্ডিষ্ট রাজীব আহমেদ। পাশাপাশি সিডনির স্থানীয় শিল্পী, সংগীতশিল্পী আরফিনা মিতা ও আতিক হেলাল ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ভবের হাট ও নৃত্যশিল্পীদের পরিবেশনায়ও সাজানো হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। থাকছে অর্পিতা সোম ও তাঁর দলের নৃত্য পরিবেশনা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি সৈয়দ বাকের, কোষাধ্যক্ষ সাদিয়া হক তন্দ্রা, সহকারী কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান, জনসংযোগ সম্পাদক আরিফ মইন, সদস্য ইরফান ফয়েজ ও সাকিনা আক্তার সহ আরো অনেকেই ।
এ ছাড়া কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ক্যাম্পবেলটাউন সিটির কাউন্সিলর ইব্রাহিম খলিল মাসুদ, সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মদ জামান টিটু, আব্দুল খান রতন, আইনজীবী উপল আমীন এবং উৎসবের টাইটেল স্পন্সর ‘বিল্ড টুডে কনস্ট্রাকশনস’-এর পরিচালক শামস আলম।

উল্লেখ্য, সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন ও অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ প্রেস ও মিডিয়া ক্লাবের সাংবাদিকবৃন্দসহ সিডনির বিশিষ্ট সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকদের পক্ষ থেকে উৎসবের স্পন্সর, সহযোগী প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যমকর্মী এবং কমিউনিটির সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। সবার সহযোগিতা ও অংশগ্রহণে এবারের আয়োজনকে একটি আনন্দমুখর ও সর্বজনীন বহুসাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।
আগামী ১১ অক্টোবর ফেয়ারফিল্ড শোগ্রাউন্ডে বসন্তের রঙ, গান, নাচ, খাবার, শিল্প-সংস্কৃতি ও পারিবারিক আনন্দে মুখর হয়ে উঠবে দিনটি এমনটাই প্রত্যাশা আয়োজকদের।