শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১১:১৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ষড়যন্ত্রকারীদের ২০২৪ সালের মতোই জনগণ উচিত জবাব দেবে: প্রধানমন্ত্রী স্বাধীন, শক্তিশালী ও দুর্নীতিমুক্ত বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আহ্বান আইনমন্ত্রীর বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে ধস: যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে উধাও কয়েক ট্রিলিয়ন ডলার ভারতীয় ভিসা আবেদনে নতুন নির্দেশনা ঢাকায় শুরু হচ্ছে এআই বিজনেস সামিট, উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা রোনালদোর একনেক সভায় ১৩ প্রকল্পের অনুমোদন ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৬৬ জন ডিসেম্বরের মধ্যে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ : মজুরি বোর্ড শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান পোশাকশিল্প মালিকদের

স্বাধীন, শক্তিশালী ও দুর্নীতিমুক্ত বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আহ্বান আইনমন্ত্রীর

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬
  • ৩ Time View

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, দেশে স্বাধীন, শক্তিশালী ও দুর্নীতিমুক্ত বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যাতে মানুষ ন্যায়বিচার এবং বিচার বিভাগের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস ফিরে পায়।

নবীন আইনজীবীদের মেধা, সততা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমেই বিচারাঙ্গনের মর্যাদা সুপ্রতিষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আজ ঢাকা আইনজীবী সমিতির নবীন সদস্যদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, আইন পেশায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কোনো শর্টকাট পথ নেই। মেধা, প্রজ্ঞা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেই একজন আইনজীবীকে নিজের অবস্থান তৈরি করতে হবে।

তিনি বলেন, একজন বিপদগ্রস্ত মানুষ আল্লাহর পর আইনজীবীর কাছেই আস্থা ও ভরসা নিয়ে আসেন। তাই মক্কেলের বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা করা আইনজীবীর নৈতিক দায়িত্ব। আদালতে যাওয়ার আগে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও আইনের গভীর জ্ঞান অর্জন করতে হবে। একই সঙ্গে বিচারকদেরও আইনের ঊর্ধ্বে মনে করার সুযোগ নেই। কোনো বিচারকের কর্মকাণ্ডে বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হলে তাকেও আইনের আওতায় জবাবদিহি করতে হবে।

তিনি বলেন, আদালত অঙ্গনে দলীয় আধিপত্য ও ক্ষমতার দম্ভ নয় বরং প্রত্যেক আইনজীবীকে আদালতে আইনের কথা তুলে ধরতে হবে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে হবে।

আইন পেশায় নবীনদের প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, আইনজীবী হিসেবে সনদ পাওয়ার পরপরই অনেকে পেশাগত জীবনে প্রবেশ করলেও পর্যাপ্ত প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের সুযোগ পান না। অনেক ক্ষেত্রে সিনিয়রদের সঙ্গে কাজ করেও তারা যথাযথ সহযোগিতা ও ন্যায্য পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত হন। এ পরিস্থিতির পরিবর্তনে নবীন আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে।

মন্ত্রী জানান, আইনজীবীদের প্রশিক্ষণের জন্য চলতি বছর আইন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি কোম্পানিতে আইনজীবীদের কর্মসংস্থান বাড়াতে প্রতিটি কোম্পানিতে একজন করে আইনজীবী নিয়োগের বিধান প্রবর্তনের লক্ষ্যে কোম্পানি আইন সংশোধনের বিষয়টি বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, পেশাগত স্বচ্ছতা, সততা ও নৈতিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোও আইনজীবীদের দায়িত্ব। একজন আইনজীবী দশটি মামলা পরিচালনা করলে অন্তত দুটি মামলা দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য বিনা পারিশ্রমিকে পরিচালনা করতে পারেন।

বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সব হত্যাকাণ্ড, অন্যায় ও অবিচারের বিচার করতে বদ্ধপরিকর।

বিগত ১৬ বছরের বেশি সময়ের আন্দোলনে সাড়ে চার হাজারের বেশি সহযোদ্ধাকে হারানো, সাত শতাধিক মানুষের গুম এবং ৬০ লাখের বেশি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা করার বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব অন্যায়-অবিচারের বিচার নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।

তিনি নবীন আইনজীবীদের আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকার ও জনগণের পাশে থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বিচার বিভাগকে স্বাধীন, শক্তিশালী ও কার্যকর করার মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার কথা বলেন।

ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ার জাহিদ ভূইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিবসহ সমিতির সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ, বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এবং নবীন আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category