উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়া থেকে বুধবার সকালে ১৭৫ জন বাংলাদেশি স্বেচ্ছায় দেশে ফিরেছেন। দেশে ফেরা এই সব বাংলাদেশিই লিবিয়ার একাধিক ডিটেনশন সেন্টারে বন্দী ছিলেন। তারা সবাই অবৈধ উপায়ে লিবিয়া হয়ে ইউরোপের দেশগুলোতে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন।
প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশিদের বেশিরভাগই সমুদ্র পথে অবৈধভাবে ইউরোপ গমনের উদ্দেশ্যে মানবপাচারকারীদের প্ররোচনায় ও সহযোগিতায় লিবিয়ায় অনুপ্রবেশ করে বলে জানা যায়। এমন তথ্য জানিয়ে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার জানিয়েছে, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সহযোগিতায় লিবিয়ার ত্রিপলীস্থ তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি ১১৩ জন এবং বেনাগাজীস্থ গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি ৬২ জনসহ মোট ১৭৫ জন স্বেচ্ছায় দেশে প্রত্যাবাসনেচ্ছুক অনিয়মিত বাংলাদেশি নাগরিককে বুধবার সকালে বুরাক এয়ারের ফ্লাইট যোগে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
মন্ত্রণালয় আরো জানায়, তাদের অনেকে লিবিয়াতে বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন মর্মে অভিযোগ রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তাগণ প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশি নাগরিকদের বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান। জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তাদের এই দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা সকলের সাথে বিনিময় করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাদের অনুরোধ জানানো হয়। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসনকৃত প্রত্যেককে পথখরচা, কিছু খাদ্যসামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়।
লিবিয়ায় বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা এক সাথে কাজ করে যাচ্ছে।