সোমবার, ২২ জুলাই ২০২৪, ০২:৫২ পূর্বাহ্ন

গরম ভাতের পাতে রসনার সুখ

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪
  • ৬৭ Time View

আমার মনে হয় স্বামীরা শুধু স্বামীই, প্রেমিক হতে পারে না!!
নাকি চাই-ই না…..
আগে প্রেমিক পরে স্বামী তাদের কথা অজানা আমার….
বিয়ের পরে আমরা স্ত্রীরা ক’দিন যেতে না যেতেই নিজের মেয়েবেলার পছন্দ- অপছন্দের কথা বেমালুম ভুলে গিয়ে তাদের ভাললাগা গুলোতে অভ্যস্ত হয়ে ভালবাসতে শুরু করি……
নিজের পছন্দের তালিকায় থাকা খাবার গুলোর কথাও মাথা থেকে কেমন মুছে যেতে থাকে অজান্তে…..
নিজে রান্নাঘরের সর্বময় কর্তৃ হওয়া সত্ত্বেও নিজের রসনা তৃপ্তির রেসিপি আর রান্নার মেনুতে থাকে না, আসলে ইচ্ছে করেই প্রাধান্য দেওয়া হয় স্বামী-সন্তানদের পছন্দ – অপছন্দ গুলোকে….
যে আমি বিয়ের আগে ঝাল জাতীয় রান্নায় কখনো মিষ্টি খাইনি মানে আমাদের বাড়ীতে চল নেই, এখন এতটাই রপ্ত করে ফেলেছি যে, এখন না দিলে কেমন যেন আলুনি লাগে!!
মনে হয় অতি জরুরী একটা উপকরণ বাদ পড়েছে তাই এমন বেস্বাদ লাগছে….
আমাদের বাড়ীতে এক সর্ষে ইলিশ/ ভাপা ইলিশ ছাড়া কোন মাছ না ভেজে খেয়েছি বলে মনে পড়েনা!!
কিন্তু এখন প্রায়ই তার পছন্দমতো শুধু গরম তেলে একটু এপিঠ ওপিঠ করে সব্জী দিয়ে পাতলা ঝোল করি!!
মুখে একটু ভাব নিয়ে থাকি কিন্তু খেতে মন্দ লাগে না, আসলে আমি পুরোপুরি তাদের মত না করে, আমি দুই পরিবারের থেকে কিছু কিছু নিয়ে আমার মত করে করার চেষ্টা করি¡!
এই আজ যেমন ঝিঙে পটল দিয়ে ট্যাংরা মাছ করে বললাম, আমি তো তোমার পছন্দমত কত কিছু করি, তুমি কি কর আমার জন্য?
হাসতে হাসতে বলল কেন কাজ কর্ম হীন অলস দিনেও তোমার অপছন্দের সাদা দাড়ি ওয়ালা মুখটা কামিয়ে এলাম!!
এই হলো জীবনের গুমোট ঘরে ভেজানো খিড়কীর ফাঁক গলিয়ে প্রবেশ করা একটুখানি ফুরফুরে শীতল হাওয়া!!

ট্যাংরা বা পাবদা পেঁয়াজ রসুন দিয়ে ভুনা টাইপের না করে গরমের দিনে ঝিঙে বা শীতে বেগুন দিয়ে এভাবে করলে বেশ লাগে…..
যেহেতু এই মাছ গুলো নরম তাই না ভাজলেও হয় তবে আমি একটু হালকা এপিঠ ওপিঠ করে তুলে নিয়েছি।
তারপর ঐ তেলেই এক চিমটি কালোজিরে – শুকনো মরিচ ফোঁড়ন দিয়ে একটা পেঁয়াজ কুচি হালকা বাদামী করে ভেজে, লম্বাটে করে কেটে রাখা ঝিঙে ছেড়ে দিয়ে সামান্য নেড়েচেড়ে একটা বাটিতে গুলে রাখা পরিমাণ মত মরিচ, জিরা ও হলুদের মিশ্রণ ঢেলে দিয়ে ভালো করে কসিয়ে স্বাদমতো নুন দিয়ে নেড়ে তেল বের হলে কিছুটা গরম জল দিয়ে ঢেকে দিয়েছি।
ফুটে উঠলেই ঢাকনা খুলে মাছ দিয়ে সামান্য রেখে কয়েকটি কাঁচা মরিচ ও ধনেপাতা ছড়িয়ে চুলার আঁচ কমিয়ে চাপা দিয়ে একটু পরে চুলা বন্ধ করে দিতে হবে কারণ ঝিঙা ও ট্যাংরা মাছ দুটোই খুব নাজুক!!
গরম ভাতের পাতে রসনার সুখ জমে উঠুক…..
লিখেছেন কবিতা রায়

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category