এবারের শারদীয় দুর্গাপূজা সর্বোচ্চসংখ্যক পূজামণ্ডপ, সর্বোচ্চ অর্থ বরাদ্দ, সর্বোচ্চ ছুটি, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে সারা দেশে উদযাপিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর বনানীতে কামাল আতাতুর্ক এভিনিউসংলগ্ন বনানী পূজার মাঠে গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশন আয়োজিত দুর্গাপূজার মহাষষ্ঠীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে প্রতিটি নাগরিকের স্বাধীনভাবে ধর্মচর্চা, উপাসনালয় নির্মাণ এবং কোনো ধরনের বৈষম্য ছাড়াই সব আচার-অনুষ্ঠান পালনের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি শব্দটির পরিবর্তে ধর্মীয় সম্প্রীতি ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, আমরা কেউ এখানে সম্প্রদায় হয়ে আসিনি। দেশের আইন ও সংবিধান কাউকে সম্প্রদায় হিসেবে চিহ্নিত করে না। আমরা সবাই বাংলাদেশের সমান অধিকারপ্রাপ্ত স্বাধীন নাগরিক।
তিনি আরও বলেন, অতীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের রাজনৈতিক ফায়দা ও ভোটব্যাংক হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার নাগরিক হিসেবে সবার অধিকারকে প্রাধান্য দেয়।
এবারের বনানী পূজামণ্ডপের জলজ থিমের আওতায় দেশীয় সংস্কৃতি, উপাদান ও আবহে নির্মিত নান্দনিক সাজসজ্জার প্রশংসা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশীয় ঐতিহ্যে রূপায়িত এ আয়োজন সত্যিই অসাধারণ ও প্রশংসনীয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারীসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনৈতিক কোরের সদস্যরা।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন বাফুফে চেয়ারম্যান ও বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল, গুলশান সোসাইটির সভাপতি ব্যারিস্টার ওমর সাদাত এবং বনানী সোসাইটির সভাপতি শওকত আলী ভূঁইয়া দিলন।
গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলোক সাহার সভাপতিত্বে এবং সংগঠনটির সদস্য স্বপ্না ভৌমিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক বিনয় গোপাল রায়।
মহাষষ্ঠীর শুভলগ্নে দুর্গার আগমনী গান, নৃত্য পরিবেশনা, মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বালন এবং শারদীয় বিশেষ সাময়িকী বোধনের মোড়ক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।