বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন

ইরান যুদ্ধে ৩৯টি মার্কিন বিমান ধ্বংস

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬
  • ৩ Time View

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের জেরে মার্কিন বিমান বাহিনী বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) মার্কিন সিনেটের এক শুনানিতে জানানো হয়েছে যে, যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র অন্তত ৩৯টি বিমান হারিয়েছে। তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের একটি রিপোর্টের বরাতে বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির আইনপ্রণেতা এড কেস এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনেন।

সিনেট শুনানিতে এড কেস জানান, প্রতিরক্ষা বিষয়ক সংবাদ সংস্থা ‘দ্য ওয়ার জোন’-এর প্রায় এক মাস আগের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী এই ৩৯টি বিমান ধ্বংসের তথ্য পাওয়া গেছে। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইরানের সঙ্গে সংঘাত চলাকালে মার্কিন বিমান বাহিনী প্রায় ১৩ হাজার ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। এই বিশাল সংখ্যক অভিযানের মধ্যে ৩৯টি বিমান পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে এবং আরও ১০টি বিমান বিভিন্ন মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির তালিকায় ইরানের আকাশসীমার ভেতরে একটি অত্যাধুনিক ‘এফ-৩৫এ লাইটনিং ২’ যুদ্ধবিমান আঘাতপ্রাপ্ত হওয়া এবং একটি ‘বোয়িং ই-৩ সেন্ট্রি’ বিমান ধ্বংস হওয়ার মতো গুরুতর দাবি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালালে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। এর জবাবে তেহরান ইসরায়েল এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের ওপর প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। প্রায় পাঁচ সপ্তাহব্যাপী রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত কূটনৈতিক আলোচনা কোনো স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় অঞ্চলে এখনো চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

বর্তমানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ছাড়াই এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়েছেন। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে বড় ধরনের যুদ্ধ বন্ধ রয়েছে, তবুও সংঘাতের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির এই চিত্র মার্কিন রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বড় বড় যুদ্ধবিমান হারানোর এই তথ্য ওয়াশিংটনের সামরিক কৌশলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমানে যুদ্ধ স্থায়ীভাবে অবসানের লক্ষ্যে নেপথ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও দুই দেশের মধ্যকার আস্থার সংকট এখনো কাটেনি।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category