ভুয়া মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে অস্ট্রেলিয়া পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ৯৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচার চক্রের মূল হোতাসহ চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর পাইকপাড়ায় র্যাব-৪ ব্যাটালিয়ন কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মাহবুব আলম।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. তারেকুল ইসলাম (৪৫), মো. মাইনুদ্দিন ভূইয়া (৪৮), মো. নেওয়াজ (৪৫) ও আবু হাসান (৪৮)। তাদের মধ্যে তারেকুল ইসলামকে চক্রের মূল হোতা বলে দাবি করেছে র্যাব।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, অস্ট্রেলিয়ান ভিসা প্রক্রিয়ায় ভিসা প্রাপ্ত ব্যক্তির তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়। এই প্রক্রিয়াকে পুঁজি করে ‘টিআই ট্রেডিং কর্পোরেশন’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান নিজেদের তৈরি ভুয়া মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে জাল কাগজপত্র প্রদর্শন করে ভিসা সম্পন্ন হয়েছে বলে ভুক্তভোগীদের বিশ্বাস করাতো। এরপর প্রত্যেকের কাছ থেকে ২১ লাখ টাকা করে আদায় করা হতো।
ভুক্তভোগী মো. শরীফ মোল্লা (২৮) তার স্বজনদের অস্ট্রেলিয়া পাঠানোর উদ্দেশ্যে ২০২৫ সালের ১২ মে ও পরবর্তী সময়ে আসামি তারেকুল ইসলামের পল্লবী থানাধীন বাসা ও অফিসে গিয়ে ‘এশিয়া ব্যাংক টিআর গ্রুপ’ নামে একটি হিসাবে মোট ৯৪ লাখ টাকা জমা দেন। এ সময় পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি ভিসা ও বিমান টিকিট ইস্যু করলেও সংশ্লিষ্ট হাইকমিশনে যাচাই করে ভুক্তভোগীরা জানতে পারেন, সব কাগজপত্রই জাল। নির্ধারিত তারিখে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় গেলে তাদের আটকে দেওয়া হয় এবং নথি ভুয়া বলে জানানো হয়।
এ ঘটনায় পল্লবী থানায় মামলা দায়েরের পর র্যাব-৪ গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার উত্তরা কাওলাবাজার ও যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূল হোতা তারেকুল ইসলামসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাবের দাবি, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় পাঠানোর নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে আসছিল। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।