বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
একনেকে ১৬ হাজার ২০৭ কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন ধর্ম, বর্ণ ও পরিচয় অধিকার ও সুযোগের ক্ষেত্রে বাধা হবে না : প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপে ৩০ ব্যাংকের এটিএমসহ ডিজিটাল সেবা চালু প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের সভা শুরু তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বদলাতে সংবিধানে ফিরছে গণভোটের বিধান’ শিক্ষকতাকে মেধাবীদের পছন্দের প্রথম পেশা করতে কাজ করছে সরকার অপটোজেনেটিক্সে অবদান রেখে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছেন তিন বিজ্ঞানী জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান কারাগারে অনলাইনে বিবাহ নিবন্ধনে অনিয়ম, বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ কমবে : আইনমন্ত্রী জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

লেখক হুমায়ুন কবিরের জন্মদিন আজ

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩০০ Time View
হুমায়ুন কবির একজন কবি, ঔপন্যাসিক, গ্রন্থকার, শিক্ষাবিদ, প্রশাসক ও রাজনীতিবিদ। তিনি ১৯০৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন ব্রিটিশ রাজের অধীনে পূর্ববাংলার ফরিদপুর জেলার কোমারপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯২২ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় তিনি স্টার মার্কস পেয়ে প্রথম হয়েছিলেন। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি প্রথমে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হন ও ইংরেজি নিয়ে আইএ পাস করেন। কিন্তু তার পরীক্ষার ফল আশানুরূপ হয়নি। তিনি প্রথম শ্রেণিতে তৃতীয় হয়েছিলেন। এখন এই শিক্ষায়তনটি প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে উন্নীত হয়েছে। তিনি ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৩১ সালে স্নাতক প্রাপ্ত হন। ছাত্রাবস্থায় তিনি অক্সফোর্ড ইউনিয়নের সঙ্গে ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। ১৯৩০ সালে তিনি অক্সফোর্ড মজলিসের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৩১ সালে তিনি অক্সফোর্ড ইউনিয়ন সোসাইটির সেক্রেটারি হন। ১৯৩২ সালে তিনি জুয়েট সোসাইটির প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন।
১৯৫৮ সালে মৌলানা আজাদের মৃত্যু হলে তিনি বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও সাংস্কৃতিক মন্ত্রীও (মিনিস্টার ফর সায়েন্টিফিক রিসার্চ অ্যান্ড কালচারাল অ্যাফেয়ার্স) হয়েছিলেন এবং ১৯৫৮ থেকে ১৯৬৩ সাল পর্যন্ত এই পদে বহাল ছিলেন। ১৯৬৫ সালে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তাকে মাদ্রাজ গভর্নরের পদ দেওয়ার প্রস্তাব করলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। ১৯৬৩ থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত তিনি মিনিস্টার অব পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড কেমিক্যালস ছিলেন। ১৯৫৬ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত তিনি রাজ্যসভার সদস্য ছিলেন। ১৯৫৭ থেকে ৫৮ সালে তিনি ভারতের বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের রাষ্ট্রমন্ত্রী (স্টেট মিনিস্টার ফর সিভিল অ্যাভিয়েশন) ছিলেন। ১৯৬২ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত তিনি পশ্চিমবঙ্গের বসিরহাট এলাকার প্রতিনিধি হিসেবে লোকসভার সদস্য হন।
১৯৪৮ সালে যখন ভারতীয় দল ইউনেসকোতে যায়, তখন তিনি ওই প্রতিনিধি দলের উপনেতা ছিলেন। তিনি ১৯৫৮ থেকে ১৯৬৪ সাল মেয়াদে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব কালচারাল রিলেশনসের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনি ইন্ডিয়ান সায়েন্স কংগ্রেসেরও প্রেসিডেন্ট ছিলেন।
হুমায়ুম কবির মৌলানা আবুল কালাম আজাদের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ, ‘ইন্ডিয়া উইনস ফ্রিডম’ বইটির অনুবাদ ও সম্পাদনা করেন। ১৯৫০ সালে ‘রেস’ বা জাতিবিষয়ক প্রশ্ন নিয়ে ইউনেসকোর যে বিবৃতি লিপিবদ্ধ করা হয়, তিনি সেই বিবৃতির খসড়া প্রস্তুতকারকদের অন্যতম ছিলেন।
হুমায়ুন কবির কয়েকটি উঁচুদরের পত্রিকার লেখক ও সম্পাদক ছিলেন যার মধ্যে ছিল ‘ভারত’, ‘বারোমাসি’ ও ‘চতুরঙ্গ’। তিনি সাহিত্য, সভ্যতা, দর্শন ও রাজনীতি নিয়ে ২০টির বেশি বই লিখেছেন বাংলা ও ইংরেজি ভাষায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-ইমানুয়েল ক্যান্ট, দ্য ইন্ডিয়ান হেরিটেজ, মানুষ ও নদী, সবুজ ও সোনা, এডুকেশন ইন ইন্ডিয়া, গণতন্ত্র ও সংখ্যালঘু ইত্যাদি। তিনি মাওলানা আলতাফ হোসেন হালীর মুসাদ্দাস নামের বিখ্যাত বইটি বাংলায় অনুবাদ করেন। ১৯৬৯ সালের ১৮ আগস্ট তিনি মারা যান।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category