চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল আগামী নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে প্রকাশের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, আগামী নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে ফল প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য শিক্ষা বোর্ডগুলো প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু করেছে।
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয় গত ২ জুলাই। পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা ছিল ৮ আগস্ট। এরপর ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করার পরিকল্পনা ছিল। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হলে ওই বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর।
এবার দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেয় ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী। সারা দেশে তাদের জন্য নির্ধারিত ছিল ২ হাজার ৬৯৭টি পরীক্ষাকেন্দ্র।
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে এবার সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ছিল ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডের ৩ লাখ ৩৯৩ জন শিক্ষার্থী ৩১০টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেয়।
এ ছাড়া রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৩০ জন, যশোরে ১ লাখ ১৭ হাজার ২১০, দিনাজপুরে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৭৯, চট্টগ্রামে ৯৯ হাজার ৬৮৮ এবং কুমিল্লায় ৯৪ হাজার ৮০২ জন পরীক্ষার্থী ছিল।
অন্যদিকে, ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিল ৭৩ হাজার ৩৭ জন, সিলেটে ৭১ হাজার ৭১১ এবং বরিশালে ৫৮ হাজার ৬৬৪ জন।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৪৬১টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৯২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থী। আর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬১০টি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন।
সব মিলিয়ে লিখিত ও ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর এখন ফল প্রকাশের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। শিক্ষা বোর্ডগুলোর পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী নভেম্বরের মাঝামাঝি প্রকাশ হতে পারে এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল।