শুক্রবার, ০২ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:৪২ অপরাহ্ন

নতুন বছর শুরুতেই ভয়ানক ট্র্যাজেডি: Crans-Montana বারে আগুন, প্রায় ৪০ জন নিহত, ১১৫ আহত

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ২ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১১ Time View

সুইজারল্যান্ডের জনপ্রিয় স্কি রিসোর্ট শহর Crans-Montana-তে নতুন বছরের প্রথম প্রহরে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন একশোরও বেশি মানুষ, যাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের একটি বড় অংশ এখনও বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি স্থানীয় সময় রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে, নতুন বছর উদযাপনের সময় Crans-Montana-র একটি ব্যস্ত বারে হঠাৎ আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তখন ভেতরে বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় জানা যায়, আগুন লাগার পর অল্প সময়ের মধ্যেই ঘন ধোঁয়া ও তীব্র শিখা পুরো জায়গাটি গ্রাস করে ফেলে। সংকীর্ণ বের হওয়ার পথ এবং অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে অনেকেই দ্রুত বাইরে বেরোতে পারেননি।

আতঙ্কের মধ্যে অনেকে জানালা ভেঙে বের হওয়ার চেষ্টা করেন, কেউ কেউ ধোঁয়ার মধ্যে দিক হারিয়ে ফেলেন। মুহূর্তের মধ্যে উৎসবের আনন্দ বদলে যায় চিৎকার, কান্না ও আর্তনাদে। দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই বহু মানুষ গুরুতরভাবে দগ্ধ হন।

দুর্ঘটনার পরপরই ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ, দমকল ও জরুরি চিকিৎসা দল। আহতদের অ্যাম্বুলেন্স ও হেলিকপ্টারের মাধ্যমে নিকটবর্তী ও বড় শহরের হাসপাতালে পাঠানো হয়। স্থানীয় হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা দ্রুত পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় আহতদের জেনেভা, লজান, জুরিখসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়েছে।

নিহত ও আহতদের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের পর্যটকরাও রয়েছেন। অনেক পরিবার এখনও তাদের স্বজনের খোঁজে উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। নিখোঁজ ও আহতদের তথ্য জানাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে।

সুইস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে এটিকে একটি দুর্ঘটনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত সন্ত্রাসী হামলা বা ইচ্ছাকৃত নাশকতার কোনো প্রমাণ মেলেনি। তবে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হলো, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথ ছিল কি না এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণে কোনো গাফিলতি ছিল কি না এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে সুইস সরকার। দেশজুড়ে পাঁচ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে এবং সরকারি ভবনগুলোতে পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে শোকবার্তা ও সমবেদনা জানানো হচ্ছে নিহতদের পরিবারগুলোর প্রতি।

বর্তমানে উদ্ধার অভিযান শেষ হলেও তদন্ত ও চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মৃতদের পরিচয় শনাক্তকরণে সময় লাগতে পারে। আহতদের অনেকের অবস্থা এখনও সংকটজনক থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নতুন বছরের যে রাতটি হওয়ার কথা ছিল আনন্দ আর আশার সূচনা, সেটিই Crans-Montana-র জন্য পরিণত হলো এক গভীর শোকের স্মৃতিতে যা দীর্ঘদিন এই শহর ও অসংখ্য পরিবারের মনে দগদগে ক্ষত হয়ে থেকে যাবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category