বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:৩৩ অপরাহ্ন

নতুন বইয়ে উচ্ছ্বাস প্রাথমিকের শিশুদের, অপেক্ষায় মাধ্যমিক শিক্ষার্থীরা

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫ Time View

নতুন বছরের প্রথম দিনে নতুন বই হাতে পাওয়ার আনন্দে উচ্ছ্বসিত দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুরা। সকাল থেকেই স্কুলমুখী হয়ে তারা রঙিন মলাটের বই বুকে জড়িয়ে ধরেছে, কেউ কেউ খুশিতে উল্টে দেখছে পাতা। তবে একই দিনে ভিন্ন চিত্র মাধ্যমিক স্তরে। কোথাও আংশিক বই, কোথাও একেবারেই বই না পাওয়ায় অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে বহু শিক্ষার্থীকে।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সরেজমিনে রাজধানীর উত্তরা এবং বাড্ডা এলাকার কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই স্কুলে ভিড় জমাতে শুরু করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। আনুষ্ঠানিকতা শেষে নতুন ক্লাসে শিক্ষার্থীদের রেজাল্ট শিট যাচাই করে শিক্ষকরা হাতে তুলে দিচ্ছেন নতুন পাঠ্যবই। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সকালে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বই বিতরণ করা হয়। বেলা ১১টার পর তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বই দেওয়া হচ্ছে।

বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজাদুর রহমান বলেন, আমাদের স্কুলের সব শিক্ষার্থীর জন্য শতভাগ বই এসেছে। প্রথমে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির বই দেওয়া হচ্ছে, এরপর তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির বই দেওয়া হবে। সবাই আজই বই হাতে পাবে।

তিনি জানান, এ বছর বই বিতরণে কোনো উৎসব করা হয়নি। রোল ধরে ডেকে ডেকে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বইয়ে কোনো কাটা-ছেঁড়া বা ত্রুটি আছে কি না, তা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দেখে নিতে বলা হচ্ছে। এতে কিছুটা সময় লাগছে।

অন্যদিকে নতুন বই পেয়ে শিশুদের মধ্যেও দেখা গেছ ব্যাপক উচ্ছ্বাস। দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রায়হান বলে, নতুন বই পেয়ে অনেক ভালো লাগছে। খুব সুন্দর রঙের বই। বাসায় নিয়ে মলাট বাঁধবো।

ফাইয়াজ মাহমুদ নামের আরেক শিক্ষার্থী বলে, নতুন বই নিয়ে অনেক আনন্দ লাগছে। বাসায় গিয়েই সব বই পড়ে ফেলবো।

তবে প্রাথমিকের এই আনন্দের চিত্রটি সব জায়গায় এক নয়। মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে দেখা গেছে ভিন্ন বাস্তবতা। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শতভাগ বই পৌঁছালেও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে চাহিদামতো বই না আসায় শিক্ষার্থীরা বই পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছে। কোথাও একজন শিক্ষার্থী পেয়েছে দুটি বই, কেউ পেয়েছে তিনটি, আবার কেউ এখনো একটিও পায়নি।

খিলগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা কেউ ক্লাসরুমে গল্প-আড্ডায় মেতে আছে, কেউ বাইরে খেলাধুলায় ব্যস্ত। তারা জানায়, কখন বই দেওয়া হবে, সে বিষয়ে শিক্ষকরা নির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি। তবে বিকেল পর্যন্ত স্কুলে থাকতে বলা হয়েছে। বই এলে ক্লাসে ডেকে নেওয়া হবে—এমন নির্দেশনাই দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যালয়টির শিক্ষক মিলনায়তনে গিয়ে দেখা যায়, বই বিতরণের রেজিস্টার হাতে শিক্ষকরা হিসাব-নিকাশে ব্যস্ত। কোন শ্রেণির, কোন বিষয়ের কতটি বই এসেছে, সেটির তালিকা তৈরি চলছে।

সহকারী শিক্ষক শহীদুল হক বলেন, ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণির কিছু বই এসেছে। কিন্তু সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বইয়ের ঘাটতি বেশি। এখন কাউকে দুইটা আর কাউকে তিনটা বই দিলে যার কম পাবে তার মন খারাপ হবে। তাই হিসাব করে দেখছি, কোন শ্রেণিতে কয়টি বই দেওয়া যায়।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্র জানায়, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৮ কোটি ৫৯ লাখ ২৫ হাজার ৩৭৯ কপি পাঠ্যবই ছাপা, বাঁধাই ও কাটিং শেষে দেশের বিভিন্ন উপজেলায় পাঠানো হয়েছে। অর্থাৎ প্রাথমিক স্তরে শতভাগ বই সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।

অন্যদিকে মাধ্যমিক, দাখিল, দাখিল (ভোকেশনাল) ও কারিগরি স্তরের পাঠ্যপুস্তকের মুদ্রণ ও সরবরাহ কার্যক্রম এখনো চলমান। ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির মোট ১৮ কোটি ৩২ লাখ ৮ হাজার ৬৯৩ কপি বইয়ের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৬৬ শতাংশ বই উপজেলায় পৌঁছেছে।

সম্প্রতি এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক রিয়াদ চৌধুরী বলেন, বছরের প্রথম দিনেই শতভাগ শিক্ষার্থীর হাতে বই তুলে দিতে পারব — এমন কথা আমরা বলছি না। তবে শতভাগ শিক্ষার্থী যেন দ্রুত বই পায়, সে চেষ্টাই করছি। ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬৬ শতাংশের বেশি বই সরবরাহ করা হয়েছে। বাকি ৪৪ শতাংশ বই যত দ্রুত সম্ভব প্রস্তুত করে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

এদিকে এবারের বই বিতরণে নেই কোনো উৎসব বা আনুষ্ঠানিকতা। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় আগেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এর মধ্যেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে অন্তর্বর্তী সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে। ৩১ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় শোক পালনের কারণে বই বিতরণকালে সব ধরনের উৎসব ও অনুষ্ঠান পরিহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা খালিদ মাহমুদ বলেন, এবার কোনো বই উৎসব হচ্ছে না। শুধুমাত্র নিজ নিজ স্কুলে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের মাঝে বই বিতরণ করবেন। ১ জানুয়ারি সারাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বই বিতরণের নির্দেশনা রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category