বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
একনেকে ১৬ হাজার ২০৭ কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন ধর্ম, বর্ণ ও পরিচয় অধিকার ও সুযোগের ক্ষেত্রে বাধা হবে না : প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপে ৩০ ব্যাংকের এটিএমসহ ডিজিটাল সেবা চালু প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের সভা শুরু তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বদলাতে সংবিধানে ফিরছে গণভোটের বিধান’ শিক্ষকতাকে মেধাবীদের পছন্দের প্রথম পেশা করতে কাজ করছে সরকার অপটোজেনেটিক্সে অবদান রেখে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছেন তিন বিজ্ঞানী জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান কারাগারে অনলাইনে বিবাহ নিবন্ধনে অনিয়ম, বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ কমবে : আইনমন্ত্রী জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

একনেকে ১৬ হাজার ২০৭ কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৩ Time View

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) আজ ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট পিক সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের একটি প্রকল্পও রয়েছে।

মোট প্রকল্প ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১০ হাজার ৬০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ৪ হাজার ৮১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১ হাজার ৫২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা।

একনেক চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।

অনুমোদিত প্রকল্পের মধ্যে ১০টি নতুন, দু’টি সংশোধিত এবং একটি মেয়াদ বৃদ্ধির প্রকল্প রয়েছে।

সভা শেষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।

২ হাজার ৪৯৮ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে রামপাল প্রকল্পের আওতায় বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট পিক (এমডব্লিউপি) সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো, দেশের প্রাথমিক জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণ এবং কার্বন নিঃসরণ কমানো এ প্রকল্পের লক্ষ্য।

বিদ্যুৎ বিভাগের প্রস্তাবিত ‘রামপাল ৪৪২ মেগাওয়াট পিক সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ’ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। এতে বিপিডিবির নিজস্ব তহবিল থেকে ৩৭৪ কোটি ৭১ লাখ টাকা এবং পাওয়ার সেক্টর ডেভেলপমেন্ট ফান্ড থেকে ২ হাজার ১২৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা অর্থায়ন করা হবে।

পাওয়ার সেক্টর ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের ঋণের সুদের হার হবে ২ শতাংশ। ঋণের এক বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ ১৬ বছরে তা পরিশোধ করতে হবে। পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্পটি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৯ সালের মার্চ পর্যন্ত সময়ে বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে।

পরিকল্পনা কমিশনের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রকল্পটি নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াবে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়তা করবে।’

পরিকল্পনা কমিশন বলেছে, প্রকল্পটি প্রাথমিক জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণের মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করবে এবং কার্বন নিঃসরণ কমাবে।

প্রস্তাবিত সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি রামপালের ব্লক-বি এলাকায় বিপিডিবির ইতোমধ্যে অধিগ্রহণ করা ৯১৮ দশমিক ৫০ একর জমিতে নির্মাণ করা হবে।

বিপিডিবির নিজস্ব জমি ব্যবহার করায় নতুন করে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হবে না এবং এতে প্রকল্প ব্যয় কমবে বলে জানিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।

সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ রামপালের নিকটবর্তী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যমান সঞ্চালন অবকাঠামোর মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালন করা হবে। প্রকল্পের সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, এতে তুলনামূলক দ্রুত ও কম ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য বিপিডিবি ২০১২ সালে রামপালে মোট ১ হাজার ৮৩৪ একর জমি অধিগ্রহণ করে। জমিটি ৯১৫ দশমিক ৫০ একর আয়তনের ব্লক-এ এবং ৯১৮ দশমিক ৫০ একর আয়তনের ব্লক-বিতে ভাগ করা হয়। ব্লক-এতে বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি (প্রাইভেট) লিমিটেডের মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণ করা হয়েছে। আর ব্লক-বি বিপিডিবির আওতায় রয়েছে।

প্রকল্প দলিল অনুযায়ী, ব্লক-বিতে ভূমি উন্নয়ন ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

আজকের একনেক সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সাতটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে— ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত নতুন পাঁচটি অঞ্চলের ১৮টি ওয়ার্ডের সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা পুনর্বাসন, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ১ থেকে ৮ নম্বর জোনে রাস্তা, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণ এবং সমবায়ের মাধ্যমে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা সৃষ্টির প্রকল্প।

এছাড়া সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও নওগাঁ জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় সংশোধনীও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ‘বিআইডব্লিউটিসির জন্য ৩৫টি বাণিজ্যিক ও ৮টি সহায়ক জলযান সংগ্রহ এবং দুটি নতুন স্লিপওয়ে নির্মাণ’ প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনী অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ‘রেলওয়ের সক্ষমতা সম্প্রসারণ প্রকল্প’-এর আওতায় বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহের প্রকল্পও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফ্রান্সের প্যারিসে ক্রয়কৃত চ্যান্সারি ভবন ব্যবহারোপযোগী করার জন্য সংস্কার ও আধুনিকায়ন প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দু’টি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে— ভজনপুর (নিজবাড়ী)-আটোরখাড়ি-ময়নাগুড়ি-আমতলী-মিরগড়-পঞ্চগড় (জেড-৫০৬০) সড়কের ১৫তম কিলোমিটারে দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণ এবং থানচি-রিমাকরি-মদক-লিকরি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী।

সভায় পরিকল্পনা মন্ত্রী কর্তৃক ইতোমধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের ‘জয়পুরহাট জেলার নন্দাহার, হারাবতী নদী, নুনগোলা খাল এবং খাড়োয়া খাল পুনঃখনন’ প্রকল্প সম্পর্কে একনেককে অবহিত করা হয়।

সভায় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়  মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category