অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া রাজ্যের মেলবোর্নে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে।
‘মুহাম্মদ (সা.) চিরন্তন’ স্লোগানকে সামনে রেখে ২৩ আগস্ট ভিক্টোরিয়ার ইসলামিক সোশ্যাল অ্যাসোসিয়েশন ও হেরেডিটারি অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে মেলবোর্নের ওয়েস্টগেট ইনডোর স্পোর্টস কমপ্লেক্সে এ উপলক্ষে বৃহৎ জনসমাবেশ ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও সম্প্রদায়ের বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে ইসলামিক চ্যারিটেবল ট্রাস্টের (ICPA) সভাপতি হাজি মুহাম্মদ মুহাই, অস্ট্রেলিয়ান মুসলিম কাউন্সিল অব স্টেটের (AMCS) উপমহাসচিব শেখ ড. ইব্রাহিম আল-শাফাই, হেরেডিটারি অ্যাসোসিয়েশনের ইমাম শেখ মুহাম্মদ মাহদি এবং ইসলামিক সোশ্যাল অ্যাসোসিয়েশন অব ভিক্টোরিয়ার রাইফ আবদুল রহমানসহ বেশ কয়েকজন আলেম, ধর্মীয় নেতা এবং বিভিন্ন ইসলামিক সংগঠনের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। ভিক্টোরিয়ার গভর্নরের প্রতিনিধি মেলিসা হর্ন, বিরোধীদলীয় নেতার প্রতিনিধি ইভান মোলেওল্ড ছাড়াও জেমস উইলসন, ইভান টার্নার, স্টিভ ম্যাগি, ক্যাথরিন ম্যাথিউ-ইয়ং ও সারাহ কনোলি অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এছাড়া ব্রুনো হোবিন ও লুইস বেরিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী পর্বে ইথিওপিয়া প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রদূত আনোয়ার মোহামেদ, লেবানন প্রজাতন্ত্রের কনসাল জেনারেল ড. টুনিস কাব্বি, ইরাক প্রজাতন্ত্রের কনসাল জেনারেল ড. বিলাল মাহমুদ আতিয়া, মিসরের কনসাল জেনারেল ওয়াজেদ হাসান হাশেমি এবং তাসমানিয়ায় লেবাননের কনসাল জেনারেল ফাদি জুকিসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন পৌর কাউন্সিলের প্রধান ও সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ীরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করা হয়। পরে হাজি মুহাম্মদ মুহাই ও শেখ ড. ইব্রাহিম আল-শাফাই বক্তব্য দেন। মেলিসা হর্ন ও ইভান মোলেওল্ডও বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন, আদর্শ ও মানবিক মূল্যবোধের গুরুত্ব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে ভালোবাসা, ঐক্য, পারস্পরিক সম্প্রীতি এবং সামাজিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শের ওপর সংক্ষিপ্ত আলোচনা, শিশু ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন পরিবেশনা, প্রতিযোগিতা এবং পুরস্কার বিতরণের আয়োজন করা হয়। এছাড়া ওমরাহ পালনের সুযোগসহ বিভিন্ন পুরস্কারের জন্য র্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
শিশু, শিক্ষার্থী, পরিবার ও বিভিন্ন বয়সী মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানটি সফল করতে সহযোগিতা করায় আলেম-ওলামা, ধর্মীয় নেতা, সরকারি কর্মকর্তা, রাজনীতিক, কূটনীতিক এবং বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। বিশেষভাবে গ্যালেনি প্রাইভেট স্কুলের কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থী, সহায়তাকারী দল, আয়োজক এবং ভিক্টোরিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অংশ নেওয়া পরিবার ও কমিউনিটির সদস্যদের ধন্যবাদ জানানো হয়।
ছবি: আয়োজক সংগঠন
তথ্যসূত্র: টিম প্রেস অস্ট্রেলিয়া (বাংলাদেশি অস্ট্রেলিয়ান জার্নালিস্টস গ্রুপ)