রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৫১ পূর্বাহ্ন

নেপাল-তিব্বত বন্যায় ৩৯ অস্ট্রেলিয়ান নিখোঁজ, ৫ মিলিয়ন ডলারের মানবিক সহায়তা অস্ট্রেলিয়ার

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬
  • ২ Time View

নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে এখনো প্রায় দেড় হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অন্তত ৩৯ জন অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক রয়েছেন বলে জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়ং।

নিখোঁজ অস্ট্রেলিয়ানদের সন্ধানে জরুরি তৎপরতা চালানোর পাশাপাশি দুর্গত মানুষের সহায়তায় ৫ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের মানবিক সহায়তা ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। খাদ্য, জরুরি আশ্রয়, বিশুদ্ধ পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও চিকিৎসাসেবায় এ অর্থ ব্যবহার করা হবে।

অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়ং জানিয়েছেন, সরকারের অগ্রাধিকার হচ্ছে নিখোঁজ অস্ট্রেলিয়ানদের অবস্থান শনাক্ত করে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাঁদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সহায়তা দেওয়া। ইতোমধ্যে নেপালে প্রায় ২০ জন অস্ট্রেলিয়ান কর্মকর্তা কাজ করছেন। তাঁদের সহায়তায় আরও কর্মকর্তা পাঠানোর পাশাপাশি মানবিক সহায়তা, যোগাযোগ, লজিস্টিকস ও পরিকল্পনায় অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ দলও মোতায়েন করা হচ্ছে।

সরকারের ঘোষিত ৫ মিলিয়ন ডলারের সহায়তার মধ্যে ২ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হবে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিকে (WFP)। আরও ২ মিলিয়ন ডলার অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন মানবিক সংস্থার মাধ্যমে দুর্গত এলাকায় ব্যয় করা হবে। বাকি ১ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হবে ইমার্জেন্সি অ্যাকশন অ্যালায়েন্সকে (Emergency Action Alliance), যারা স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এবিসিও তাদের এবিসি গিভস (ABC Gives) উদ্যোগের মাধ্যমে নেপাল-তিব্বত বন্যা ত্রাণ তহবিলে সমর্থন দিচ্ছে। এবিসি জানিয়েছে, তাদের সহযোগিতার মাধ্যমে ইমার্জেন্সি অ্যাকশন অ্যালায়েন্সের সদস্য সংস্থা ও নেপালে তাদের স্থানীয় অংশীদারদের মাধ্যমে খাদ্য, পানি, জরুরি আশ্রয়, আর্থিক সহায়তা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে।

দুর্যোগ মোকাবিলায় অস্ট্রেলিয়ার ১৫টি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি মানবিক সংস্থা নিয়ে গঠিত ইমার্জেন্সি অ্যাকশন অ্যালায়েন্স যৌথভাবে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। জোটটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছে সেভ দ্য চিলড্রেন অস্ট্রেলিয়া, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল অস্ট্রেলিয়া এবং অক্সফাম অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা।

ইমার্জেন্সি অ্যাকশন অ্যালায়েন্স জানিয়েছে, ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দুর্গত অনেক এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমও কঠিন হয়ে উঠেছে। হাজার হাজার মানুষ এখন জরুরি আশ্রয়, খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসেবার অপেক্ষায় রয়েছেন।

ইমার্জেন্সি অ্যাকশন অ্যালায়েন্সের নির্বাহী পরিচালক কেরেন মরিস বলেন, নেপাল ও আশপাশের অঞ্চল থেকে আসা ধ্বংসযজ্ঞের ছবি হৃদয়বিদারক। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বহু পরিবার স্বজন, ঘরবাড়ি ও জীবিকা হারিয়েছে এবং অনেক সম্প্রদায় জরুরি সেবা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

অস্ট্রেলিয়ান কাউন্সিল ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ACFID)ও যৌথ ত্রাণ উদ্যোগটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী ম্যাথিউ মরি বলেন, মানবিক প্রয়োজন দ্রুত বাড়তে থাকায় সমন্বিত পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে অস্ট্রেলীয়রা দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি নির্ভরযোগ্য সুযোগ পাচ্ছেন।

অস্ট্রেলিয়া সরকার জানিয়েছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় মানবিক ও কনস্যুলার সহায়তা আরও বাড়ানো হতে পারে। একই সঙ্গে দুর্গত এলাকায় থাকা অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকদের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলা এবং অস্ট্রেলিয়া সরকারের ভ্রমণ পরামর্শ নিয়মিত অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত
তথ্যসূত্র: টিম প্রেস অস্ট্রেলিয়া (বাংলাদেশি অস্ট্রেলিয়ান জার্নালিস্টস গ্রুপ)

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category