ভারতে নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনে জনসমর্থন ক্রমেই বাড়ছে। রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ও সহায়তা বাড়ার পাশাপাশি আন্দোলন নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও বিরোধী দলগুলোর মুখোমুখি অবস্থানও আরও তীব্র হয়েছে। এ নিয়ে টানা তৃতীয় দিনের মতো অচল হয়ে পড়ে সংসদের উভয় কক্ষ।
বুধবার (২২ জুলাই) সংবাদ সম্মেলনে কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী শিক্ষার্থীদের সব দাবি সমর্থন করেন।
তিনি দাবি করেন, গত এক দশকে ভারতে ১৫৪টি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি।
রাহুল বলেন, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি। একই সঙ্গে তিনি শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগে দায়ীদের শাস্তি এবং প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা চাওয়ার দাবিও সমর্থন করেন।
এদিকে বৃষ্টি উপেক্ষা করে বুধবারও হাজারো শিক্ষার্থী যন্তর মন্তরে অবস্থান নেন। আন্দোলনের শুরুতে পুলিশ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং খাদ্য-পানীয় প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তবে পরে সাধারণ মানুষ আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়ান। বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন বিনামূল্যে খাবার, পানি ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দিতে শুরু করেন। এমনকি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনলাইন ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেও খাবার পাঠানো হয়। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে খাবার না পাঠানোর অনুরোধ জানান।
এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে গুজরাটের আহমেদাবাদেও বিক্ষোভ হয়েছে। গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আয়োজিত ওই কর্মসূচি থেকে শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু।
অন্যদিকে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধীরা অনড় থাকায় সংসদে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা সম্ভব হয়নি। সরকার আলোচনার আগ্রহ দেখালেও শিক্ষার্থীদের সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) জানিয়ে দিয়েছে, সরকারকে যন্তর মন্তরে এসে অথবা নিরপেক্ষ স্থানে আলোচনা করতে হবে। তাদের দাবি, শুধু আলোচনা নয়, আগে শিক্ষার্থীদের মূল দাবিগুলো মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিতে হবে।