শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ০৩:৫৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
রাতে ঢাকায় বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে রাশিয়ার তেল ডিপোতে আগুন ভেনেজুয়েলায় যমজ ভূমিকম্পে নিহত অন্তত ১৬৪, ধসে পড়েছে বহু ভবন বেইজিংয়ে গণমাধ্যম খাতে বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে ৪ সমঝোতা চুক্তি জুলাইয়ের মধ্যে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সুখবর আসবে নকল পেলে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে আইনের আওতায় আনা হবে: শিক্ষামন্ত্রী বিশ্বকাপের ফাইনালে ট্রফি তুলে দেবেন ট্রাম্প ‎কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের আরও ২৬ জন গ্রেফতার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সিইও’র সাক্ষাৎ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে আওয়ামী লীগের পরিকল্পনা নস্যাৎ করা হয়েছে: ডিএমপি কমিশনার

ভেনেজুয়েলায় যমজ ভূমিকম্পে নিহত অন্তত ১৬৪, ধসে পড়েছে বহু ভবন

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬
  • ২ Time View

ভেনেজুয়েলায় গত এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী যমজ ভূমিকম্পে অন্তত ১৬৪ জন নিহত হয়েছেন এবং রাজধানীর কাছাকাছি বহু ভবন ধসে পড়েছে। নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে বৃহস্পতিবার ধ্বংসস্তূপে অনুসন্ধান চালাতে দেখা গেছে বাসিন্দাদের।

দেশটির সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর উদ্ধারকর্মী ও স্থানীয় লোকজন অন্ধকারে ধসে পড়া অ্যাপার্টমেন্টের ওপর উঠে জীবিতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছেন এবং ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে মানুষকে বের করে আনছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস-এর বরাতে লা গুয়াইরা থেকে এএফপি জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর পশ্চিমাঞ্চলে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এ ঘটনায় ফ্রান্স, স্পেন ও যুক্তরাষ্ট্র জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে।

অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ জানান, মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৬৪ জনে পৌঁছেছে এবং ৯৭০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। রাজধানী কারাকাসের উত্তরে অবস্থিত লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কাতিয়া লা মার শহরে ধসে পড়া একটি ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে ৪৯ বছর বয়সী ল্যারি রোহাস এএফপিকে বলেন, ‘আমাদের আর কিছুই নেই, এখন কিছুই নেই। ভেতরে ঢোকার মতো শক্তি বা সাহসও নেই। ভাবুন তো, আমার পরিবার সেখানে আটকা পড়েছে।’

উপকূলীয় এই শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। বহু মানুষ রাত কাটিয়েছেন রাস্তায় অথবা স্বজনদের খোঁজে।

‘কেউ তাদের বাঁচাতে আসছে না’

এএফপির সাংবাদিকরা জানান, অনেক আবাসিক ভবনে বড় ফাটল ও দেয়াল ধসে পড়ার চিহ্ন দেখা গেছে এবং আরও বহু ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।

একটি ১২ তলা ধসে পড়া ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের মেয়ের খোঁজ করা এক নারী বলেন, ‘ওদের মধ্যে এখনো জীবিত মানুষ আছে, কিন্তু কাউকে বাঁচাতে কেউ আসছে না।’

ফ্রান্স ৮৫ জন উদ্ধারকর্মী পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে এবং স্পেন ৫৪ জন সামরিক অনুসন্ধানকর্মী পাঠাবে। চীন, ভারত, ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্রও সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র তাৎক্ষণিকভাবে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল, চিকিৎসা সহায়তা এবং মানবিক সহায়তা ভেনেজুয়েলায় পাঠাচ্ছে।’

ইউএসজিএস জানিয়েছে, প্রথম ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল উপকূলীয় মোরন শহরের পশ্চিমে ২১ কিলোমিটার দূরে। ২২০৪ জিএমটিতে আঘাত হানা ওই কম্পনের ৩৯ সেকেন্ড পর প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্প হয়।

সংস্থাটি বলেছে, এটি ছিল একটি ‘ডাবলেট’ বা যুগ্ম ভূমিকম্পের ঘটনা, যেখানে প্রথম কম্পনের পর খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে আরও বড় কম্পন আঘাত হানে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলো মানুষকে ঘরবাড়ি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে কয়েকটি ভবনের গ্যাস সংযোগ বন্ধ করা হয়েছে।

রাজধানীর কাছের মাইকেতিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অবকাঠামোগত গুরুতর ক্ষতির কারণে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিমানবন্দরের ক্ষতিগ্রস্ত অংশের ছবি ছড়িয়ে পড়েছে।

কারাকাসে আতঙ্ক

ভূমিকম্পে রাজধানী কারাকাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষ রাস্তায় নেমে আসে।

৫৪ বছর বয়সী ব্যাংককর্মী ওদালিস এসকালোনা বলেন, ‘সিঁড়ি ভেঙে গেছে, দেয়ালে ফাটল ধরেছে, ছাদ থেকে জিনিসপত্র পড়ে গেছে। ভয়াবহ অভিজ্ঞতা।’

আলতামিরা এলাকায় ২২ তলা একটি ভবন পুরোপুরি ধসে পড়তে দেখা গেছে। সেখানে স্বজনদের নাম ধরে চিৎকার করছিলেন অনেকে, আর স্বেচ্ছাসেবীরা ধ্বংসস্তূপে উঠে অনুসন্ধান চালাচ্ছিলেন।

ভূমিকম্পের গভীরতা ছিল যথাক্রমে ২২ কিলোমিটার ও ১০ কিলোমিটার।

ব্যবসায়ী হেইডি রোমেরো বলেন, ‘আমি উপরের তলায় ছিলাম। জরুরি সিঁড়ি দিয়ে বের হতে হয়েছে।’

৬৯ বছর বয়সী কারমেন গেদেস বলেন, তিনি তার শয্যাশায়ী বোনের পাশে ছিলেন যখন কম্পন অনুভব করেন। ‘কম্পন ক্রমেই বাড়ছিল। জানালাগুলো নড়তে দেখলাম, তারপর সব কাঁপতে শুরু করল।’

কাবেলোর মতে, ত্রুজিলো, কারাবোবো, মিরান্দা ও লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ভূমিকম্পের কম্পন প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতাতেও অনুভূত হয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে অনেক ভবন খালি করা হয়। কলম্বিয়ার জাতীয় ভূকম্পন নেটওয়ার্কের সমন্বয়ক ফ্রেডি তোভার জানান, দেশজুড়ে ২০০টির বেশি কম্পনের রিপোর্ট পাওয়া গেছে এবং আরও আফটারশক হতে পারে।

ভূমিকম্পপ্রবণ ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক ইতিহাসে ১৯৯৭ সালে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী কম্পনে ৭৩ জন এবং ১৯৬৭ সালে কারাকাসে ভূমিকম্পে ২৩৬ জন নিহত হয়েছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category