জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধাদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান এবং মাসিক সম্মানী ভাতা প্রদানের বিষয়ে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে গেজেটভুক্ত ১৪ হাজার ৩৬৯ জন জুলাই যোদ্ধার মধ্যে ১৩ হাজার ৩৪৪ জনকে নিয়মিত মাসিক সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের সদস্য রোকেয়া বেগমের লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরো জানান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধাদের সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর আহতদের ক্ষেত্রে মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশ ও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করছে সরকার। বিদেশে চিকিৎসাধীনদের কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ মিশন তদারকি করছে।
মন্ত্রী জানান, জুলাই শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণে আগ্রহী ৩ হাজার ২৪১ জনের একটি ডাটাবেজ তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনের জন্য এক হাজার ৯৩৭ জনের তালিকা যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ পর্যন্ত গুরুতর আহত ১৫২ জন জুলাই যোদ্ধাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, তুরস্ক ও রাশিয়ায় পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ১০২ জন চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন। বর্তমানে ৫০ জন বিদেশে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সম্মানী ভাতার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধাদের মধ্যে ১৩ হাজার ৩৪৪ জনকে তাঁদের নিজস্ব ব্যাংক হিসাবে শ্রেণিভিত্তিক মাসিক ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। এর আওতায় ক-শ্রেণির যোদ্ধারা মাসে ২০ হাজার টাকা, খ-শ্রেণির যোদ্ধারা ১৫ হাজার টাকা এবং গ-শ্রেণির যোদ্ধারা ১০ হাজার টাকা করে ভাতা পাচ্ছেন। অবশিষ্ট জুলাই যোদ্ধাদের ভাতা প্রদানের কার্যক্রম বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি বলেন, চিকিৎসা, পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান ও আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।