জুলাই মাস থেকেই সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে সরকার। নতুন এই বেতন কাঠামোতে সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন (বেসিক) সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে এই নতুন পে স্কেল কার্যকর হওয়ার পর সরকারি চাকরিজীবীদের বর্তমানের ‘বিশেষ সুবিধা’ বাতিল হচ্ছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী ধাপে ধাপে বেতন বৃদ্ধি করা হবে। বর্তমান নিয়ম অনুসারে, ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে কর্মরত সরকারি কর্মচারীরা ১৫ শতাংশ এবং ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তারা ১০ শতাংশ হারে বিশেষ সুবিধা পেয়ে আসছেন। নতুন পে স্কেল বাস্তবায়িত হলে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বাড়বে মূল বেতনের ৩৫ শতাংশ।
অন্যদিকে, ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন বাড়বে মূল বেতনের ৪০ শতাংশ। বেতন বৃদ্ধির এই নতুন হারের কারণেই পূর্বের বিশেষ সুবিধাটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব পেশের পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে নতুন কোনো পে স্কেল বা সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি না হলেও দেশের জীবনযাত্রার ব্যয় অনেকটাই বেড়ে গেছে। বর্তমান পরিস্থিতির আলোকে কর্মচারীদের এই আর্থিক দিকটি সরকার অবশ্যই বিবেচনা করবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হতে যাচ্ছে। যদিও বিশেষ সুবিধাটি বাতিল হচ্ছে, তবুও মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় তা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও চলমান বাজার পরিস্থিতির চাপ সামলাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।