গাজা যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে চলা আলোচনা ইরানে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে স্থগিত রয়েছে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন আলোচনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত তিনটি সূত্র।
এতে ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য নীতির অন্যতম প্রধান উদ্যোগ বাস্তবায়ন অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই স্থবিরতা এমন সময়ে দেখা দিয়েছে যখন এক মাসেরও কম সময় আগে গাজা পুনর্গঠনের জন্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর কাছ থেকে কয়েক বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি আদায় করেছিলেন ট্রাম্প। তবে বর্তমানে ওই দেশগুলোর অনেকেই ইরানের হামলার মুখে পড়েছে।
ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্ত ছিল, হামাস যোদ্ধারা অস্ত্র সমর্পণ করলে তাদের সাধারণ ক্ষমা দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে গাজা পুনর্গঠন এবং ইসরায়েলি বাহিনীর ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের পথ তৈরি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছিল।
এই বিষয়ে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছিল হোয়াইট হাউসের মধ্যস্থতাকারীরা।
তবে সূত্র জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই নিরস্ত্রীকরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে চলা আলোচনা স্থগিত হয়ে যায়। সংবেদনশীল এই আলোচনার বিষয়টি প্রকাশ করতে না চাওয়ায় তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন।
ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংক ট্যাংক কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের বিশ্লেষক জাহা হাসান বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের মতো দেশগুলো, যারা ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ উদ্যোগের জন্য অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তারা এখন নতুন করে ভাবতে পারে—বর্তমান পরিস্থিতিতে এই অর্থ ব্যয় আদৌ যৌক্তিক কি না।
তার ভাষায়, যখন এসব দেশ নিজেরাই রকেট হামলার মুখে পড়ছে, তখন তারা প্রশ্ন তুলতে পারে যে এই উদ্যোগে অর্থ ব্যয় করা ‘আসলেই কতটা সঠিক সিদ্ধান্ত।’