ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে সাম্প্রতিক এক হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ভেনেজুয়েলার সরকার দাবি করেছে, এই হামলার পেছনে বিদেশি ষড়যন্ত্র রয়েছে এবং এর লক্ষ্য দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করা।
সরকারি সূত্রের বরাতে স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, যুক্তরাষ্ট্র নাকি প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে গ্রেপ্তার ও অভিযুক্ত করার পর ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রক্ষমতা কার্যত “নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার” পরিকল্পনা করছে। যদিও এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক অপপ্রচার বলে উড়িয়ে দিয়েছে ওয়াশিংটন।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র এর আগেও প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক পাচার ও সন্ত্রাসবাদে জড়িত থাকার অভিযোগে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগপত্র দাখিল করে। সে সময় থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক কার্যত শীতল যুদ্ধের পর্যায়ে রয়েছে। ভেনেজুয়েলা সরকার বরাবরই এসব অভিযোগকে ‘সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ’ বলে আখ্যা দিয়ে আসছে।
সাম্প্রতিক হামলার পর ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী এক বিবৃতিতে বলেন, “দেশকে অস্থিতিশীল করতে আন্তর্জাতিক শক্তি দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই হামলাও সেই ষড়যন্ত্রের অংশ।”
অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র জানান, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ সহিংসতায় জড়িত নয় এবং দেশটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার কেবল ভেনেজুয়েলার জনগণেরই রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লাতিন আমেরিকায় প্রভাব বিস্তার, তেল সম্পদের নিয়ন্ত্রণ এবং আদর্শগত দ্বন্দ্ব—এই তিনটি বিষয়ই যুক্তরাষ্ট্র–ভেনেজুয়েলা বিরোধের মূল চালিকাশক্তি। কারাকাসে হামলার অভিযোগ সেই দীর্ঘ সংঘাতের আরেকটি অধ্যায় মাত্র।
এদিকে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে রাজধানী কারাকাসসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা এখন আন্তর্জাতিক মহলের গভীর নজরে।