বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ১১:২৪ অপরাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ ছাড়াল ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬
  • ৪ Time View

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের মোট সরকারি ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। দেশটির ট্রেজারি বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বুধবার এই মাইলফলক অতিক্রম করে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির ঋণ। দ্রুত ঋণ বৃদ্ধিতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।

মাত্র পাঁচ মাসেরও কম সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ ৩৯ ট্রিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশটির মোট ঋণ ছিল ১৯ দশমিক ৯৫ ট্রিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ প্রায় এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে।

ঋণ বৃদ্ধির পেছনে দীর্ঘদিনের বাজেট ঘাটতি, সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি, কর কমানো এবং ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয় বাড়াকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। করোনা মহামারির সময় অর্থনীতি সচল রাখতে সরকারের ব্যাপক ব্যয়ও ঋণ বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

ঋণের সুদ পরিশোধ এখন যুক্তরাষ্ট্রের বাজেটের ওপর বড় চাপ তৈরি করছে। ২০২৬ সালে দেশটির ঋণের সুদ বাবদ ব্যয় ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি হতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। এই ব্যয় দেশটির প্রতিরক্ষা খাতের মোট বাজেটের কাছাকাছি পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।

ট্রেজারি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মোট ঋণের মধ্যে জনগণের কাছে থাকা ঋণের পরিমাণ প্রায় ৩২ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার। আর সরকারের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে আন্তঃসরকারি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৭ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলার।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ঋণের বোঝা বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে ঋণের সুদহার বৃদ্ধি, বিনিয়োগ কমে যাওয়া এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ঋণের সীমা নিয়েও নতুন করে চাপ তৈরি হচ্ছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের আইনগত ঋণসীমা ৪১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার। ফলে ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রমের পর দেশটি ওই সীমার আরও কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারি ব্যয় ও রাজস্বের মধ্যে ভারসাম্য আনার ওপর জোর দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদরা। অন্যথায় ক্রমবর্ধমান ঋণ ও সুদের বোঝা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে আরও বড় চাপ তৈরি করতে পারে। বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ পরিস্থিতির প্রভাব আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজারেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category