ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সামাজিক সংহতির বার্তা নিয়ে আগামীকাল শনিবার (১৫ আগস্ট) বৃহত্তর সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য এক দিনের বিশেষ কর্মসূচিতে নিজেদের দরজা খুলে দিচ্ছে মিন্টো মসজিদ। ওয়েস্টমোরল্যান্ড রোডের এই মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে তরুণদের স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম, আন্তধর্মীয় সংলাপ এবং সম্প্রীতিবিষয়ক বিভিন্ন আয়োজন।
সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে ‘ধর্মীয় যুব সেবা’ কর্মসূচির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিশেষ আয়োজন। অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সাল পিস ফেডারেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন ধর্ম ও সাংস্কৃতিক পটভূমির তরুণ, স্থানীয় বাসিন্দা, কমিউনিটি প্রতিনিধি এবং ধর্মীয় নেতারা অংশ নেবেন।
১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘ধর্মীয় যুব সেবা’ কর্মসূচি বিভিন্ন ধর্ম, সংস্কৃতি ও সামাজিক পটভূমির তরুণদের স্বেচ্ছাসেবা, বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সংলাপের মাধ্যমে একত্রিত করে আসছে। তরুণদের নেতৃত্বের বিকাশের পাশাপাশি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতি জোরদার করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
দিনব্যাপী কর্মসূচিতে পরিচ্ছন্নতা, বাগান পরিচর্যা, বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশের সৌন্দর্যবর্ধনের মতো বিভিন্ন সামাজিক সেবামূলক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে। পরে থাকবে মধ্যাহ্নভোজ, পারস্পরিক মতবিনিময় এবং ধর্মীয় নেতাদের অংশগ্রহণে আন্তধর্মীয় আলোচনা।
এ ছাড়া ‘ধর্মীয় যুব সেবা’ কর্মসূচির সাবেক অংশগ্রহণকারী ও তরুণরা স্বেচ্ছাসেবা, নেতৃত্ব এবং সামাজিক সম্প্রীতি নিয়ে তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরবেন।
মিন্টো মসজিদ, ‘মসজিদুর রহমান আল-জামেয়ি’ নামেও পরিচিত, দীর্ঘদিন ধরে মুসলিম সম্প্রদায়ের পাশাপাশি বৃহত্তর ম্যাকারথার এলাকার মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বর্তমান মসজিদ প্রতিষ্ঠারও আগে এই এলাকায় স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আল-ফয়সাল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্থানসহ আশপাশের এলাকায় এসব কার্যক্রম পরিচালিত হতো।
১৯৯১ সালে সুবুরবান ইসলামিক অ্যাসোসিয়েশন ৪৪ ওয়েস্টমোরল্যান্ড রোডের বর্তমান স্থানটি অধিগ্রহণ করে সেখানে মিন্টো মসজিদের কার্যক্রম প্রতিষ্ঠা করে। এরপর থেকে মসজিদটি ধীরে ধীরে মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, শিক্ষা ও সামাজিক যোগাযোগের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
মসজিদে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের পাশাপাশি শিশু ও তরুণদের জন্য ধর্মীয় ও শিক্ষামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
ক্যাম্পবেলটাউন সিটি কাউন্সিলের কাউন্সিলর আশিকুর (অ্যাশ) রহমান ‘ধর্মীয় যুব সেবা’ কর্মসূচির উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি স্থানীয় সমাজে মিন্টো মসজিদের দীর্ঘদিনের অবদানের কথা তুলে ধরেছেন।
কাউন্সিলর রহমান বলেন, “মিন্টো মসজিদ ক্যাম্পবেলটাউন স্থানীয় সরকার এলাকার অন্যতম পুরোনো উপাসনালয় এবং কয়েক দশক ধরে এটি স্থানীয় মানুষের সেবা করে আসছে।”
তিনি বলেন, “মসজিদটি শুধু নামাজ আদায়ের স্থান নয়, দীর্ঘদিন ধরে এটি মানুষের মধ্যে যোগাযোগ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সম্প্রীতিপূর্ণ বহুসাংস্কৃতিক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।”
তিনি আরও বলেন, “বিভিন্ন ধর্ম ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক পটভূমির তরুণ ও মানুষকে ধর্মীয় যুব সেবা কর্মসূচির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনে স্বাগত জানানোর মধ্য দিয়ে মিন্টো মসজিদ তার সেই ঐতিহ্য অব্যাহত রাখছে।”
কাউন্সিলর রহমানের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া, শ্রদ্ধা ও সামাজিক বন্ধন আরও দৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তথ্যসূত্র: টিম প্রেস অস্ট্রেলিয়া (বাংলাদেশি অস্ট্রেলিয়ান জার্নালিস্ট গ্রুপ)