সিডনির ক্যাম্পবেলটাউন এলাকায় ঘটে যাওয়া হৃদয়বিদারক পারিবারিক সহিংসতায় নিহত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মা কামরুন নাহার ও তাঁর দুই শিশু সন্তানের রুহের মাগফিরাত কামনায় এক বিশেষ মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (৭ জুন) মিন্টোতে অবস্থিত অস্ট্রেলিয়ান মুসলিম ওয়েলফেয়ার সেন্টারে (এএমডব্লিউসি) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ বৃহত্তর মুসলিম কমিউনিটির বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।
দোয়া মাহফিলে নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা, শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য ধৈর্য ও শক্তি প্রার্থনা এবং সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন সেন্ট মেরিস মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা আবু হুরায়রা আল আজহারী এবং অস্ট্রেলিয়ান মুসলিম ওয়েলফেয়ার সেন্টারের ইমাম হাফেজ আবদুল হাদী তানভীর।
অনুষ্ঠানের আয়োজকদের মধ্যে ছিলেন ক্যাম্পবেলটাউন সিটি কাউন্সিলের কাউন্সিলর আশিকুর রহমান অ্যাশ, কাউন্সিলর এলিজা আজাদ মো. শফিকুল আলম, সেলিমা বেগম ও পূরবী পারমিতা বোসসহ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
দোয়া মাহফিলে বাংলাদেশ থেকে আগত নিহত কামরুন নাহারের ভাই মঞ্জুরুল হক আবেগঘন বক্তব্যে তাঁর বোন ও দুই ভাগ্নে-ভাগ্নির জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন। তিনি বলেন, এই কঠিন সময়ে প্রবাসী বাংলাদেশি ও মুসলিম কমিউনিটির সদস্যরা যেভাবে পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তা তাঁদের জন্য অনেক বড় সান্ত্বনা। এজন্য তিনি সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কাউন্সিলর কাউন্সিলের মাসুদ চৌধুরী, কাউন্সিলর মাসুদ খলিল, ড. আনিসুল আফসার, ড. সিরাজুল হক, ড. নার্গিস বানু, ড. ওয়ালিউল ইসলাম, গামা আবদুল কাদির, মনিরুল হক জর্জ, আলমগীর ইসলাম বাবু, সাদিকুর রহমান মুন, আব্রাহাম লিংকন, মাহফুজুল হক চৌধুরী খসরু, অ্যাডভোকেট মোবারক হোসেন, তিশা তানিয়া, নজরুল ইসলাম সাচ্চুসহ কমিউনিটির অনেকেই।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে কাউন্সিলর আশিক রহমান অ্যাশ বলেন, গত ১৮ মে ক্যাম্পবেলটাউনে সংঘটিত এই মর্মান্তিক ঘটনা শুধু একটি পরিবারকেই নয়, পুরো প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। তিনি নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং পরিবার ও সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
দোয়া মাহফিল শেষে উপস্থিত মুসল্লিরা নিহত মা ও দুই শিশুর জন্য বিশেষ দোয়া করেন। এ সময় শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে কমিউনিটির সদস্যরা তাদের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল এক শোকাবহ ও আবেগঘন পরিবেশ, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মানবিক সংহতি ও সহমর্মিতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।