পূরবী পারমিতা বোস :
আমি কখনো শুনিনি একই কবরে তিনজনের দাফন হয়েছে।আজ দেখলাম তাদের একসঙ্গে দাফন করা হলো। আমি মনে মনে ভাবছিলাম মৃত্যুর পরও মা তার সন্তান দুটিকে বুকে আগলে রাখবেন চির শান্তিতে।
একজন মা, আর তার দুই নিষ্পাপ শিশু। যে মানুষটার হাত ধরে তাদের নিরাপদ থাকার কথা ছিল, যার ঘরেই ছিল তাদের সবচেয়ে নিশ্চিন্ত আশ্রয় সেই মানুষটির হাতেই থেমে গেল তাদের জীবন। মা হয়তো অফিস শেষে বাসায় ঢোকার পরও জানতে পারেননি তার দুই কলিজার টুকরো আর নেই। সে হয়তো শেষ বারের মতো তার সবচেয়ে নিরাপদ মানুষটার দিকে তাকিয়ে ছিল……. এমন দৃশ্য ভাবলেই শরীর অবশ হয়ে আসে।
এমন ঘটনা শুধু একটা পরিবারকে শেষ করে দেয় না, পুরো কমিউনিটির ভেতর একটা দীর্ঘশ্বাস হয়ে জমে থাকে।

সিডনির ক্যাম্পবেলটাউন এলাকায় ঘটে যাওয়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক পরিবারের হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ডে নিহত মা ও দুই শিশুর নামাজে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শোক, কান্না আর স্তব্ধতায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।
শুক্রবার (২৯ মে) জুম্মার নামাজের পর সিডনির লাকেম্বা মসজিদে নিহত কামরুন নাহার, তার দুই শিশু সন্তান আয়মান আহমেদ ও আয়াশ আরহানের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাদের মরদেহ কেম্পস ক্রিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

জানাজায় প্রবাসী বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন কমিউনিটির মানুষ অংশ নেন। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন আয়মানের সহপাঠীরাও। মেধাবী এই কিশোর সিডনির একটি পারফর্মিং আর্টস স্কুলের শিক্ষার্থী ছিল। উপস্থিত ছিলেন কামরুনের সহকর্মীরাও। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কর্মরত কামরুনকে সবাই একজন পরিশ্রমী, শান্ত স্বভাবের এবং সন্তানের প্রতি ভীষণ নিবেদিত মা হিসেবেই চিনতেন।
বোন ও দুই ভাগনেকে শেষ বিদায় জানাতে বাংলাদেশ থেকে বৃহস্পতিবার রাতে সিডনিতে পৌঁছান কামরুনের ভাই।
ছোট্ট দুই শিশুর কফিন এবং এক মায়ের বিদায়ের দৃশ্য দেখে উপস্থিত অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। কেউ নীরবে চোখ মুছেছেন, কেউ আবার সন্তানদের বুকে জড়িয়ে ধরে দীর্ঘশ্বাস ফেলেছেন। পুরো পরিবেশজুড়ে ছিল এক গভীর শোক ও অসহায়ত্বের আবহ।
উপস্থিত অনেকেই বলেন, “এমন দৃশ্য যেন আর কখনও দেখতে না হয়।” কেউ কেউ মন্তব্য করেন, পরিবার, সম্পর্ক ও মানসিক সুস্থতা নিয়ে সমাজে আরও সচেতনতা প্রয়োজন।
জানাজার আগে নিহতদের জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়। ইমাম সাহেব তার বক্তব্যে ধৈর্য, মানবিকতা ও পারিবারিক বন্ধনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি সবাইকে সহমর্মী হওয়ার আহ্বান জানান এবং সবাইকে সবার পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ করেন।