মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ০৯:১৭ অপরাহ্ন

অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে মুক্তি পাচ্ছে বাংলাদেশের আলোচিত চলচ্চিত্র ‘রইদ’

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬
  • ১২ Time View

আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে ইতোমধ্যেই প্রশংসা কুড়ানো বাংলাদেশের পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘রইদ’ এবার মুক্তি পাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে। চলচ্চিত্রটির পরিবেশনার স্বত্ব যৌথভাবে অধিগ্রহণ করেছে স্ক্রিনএক্সকোপ এবং দেশিইভেন্টস অস্ট্রেলিয়া। এর মাধ্যমে দুই প্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র পরিবেশনা কার্যক্রমে যুক্ত হলো আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।

মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত ‘রইদ’ ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের জন্য নতুন ইতিহাস তৈরি করেছে। বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ International Film Festival Rotterdam-এর মূল প্রতিযোগিতা বিভাগ ‘টাইগার কম্পিটিশন’-এ প্রদর্শিত হওয়া এটি প্রথম বাংলাদেশি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। এছাড়াও Seattle International Film Festival-এ প্রদর্শিত হয়ে চলচ্চিত্রটি দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করে।

পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমনের এটি দ্বিতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। এর আগে তার নির্মিত বহুল আলোচিত চলচ্চিত্র ‘হাওয়া’ বাংলাদেশের অস্কার মনোনীত চলচ্চিত্র হিসেবে নির্বাচিত হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের বক্স অফিস চার্টে স্থান পাওয়া প্রথম বাংলাদেশি চলচ্চিত্র হিসেবে ব্যাপক আলোচনায় আসে।

বঙ্গ ও ফেইসকার্ড প্রোডাকশনের প্রযোজনায় নির্মিত ‘রইদ’ এর নির্বাহী প্রযোজক অপূর্ব বক্সী। প্রাক-ডিজিটাল যুগের গ্রামবাংলার পটভূমিতে নির্মিত এই চলচ্চিত্রে উঠে এসেছে সামাজিক স্তরবিন্যাস, লোকগাথা, আধ্যাত্মিকতা, নিয়তি ও মানবিক আকাঙ্ক্ষার গল্প।

চলচ্চিত্রটির কেন্দ্রীয় চরিত্র সাধু এক দরিদ্র বর্গাচাষী, যে মানসিকভাবে অস্থির স্ত্রীকে নিয়ে প্রায় বিচ্ছিন্ন এক জীবনযাপন করে। স্ত্রীকে দূর-দূরান্তে ফেলে আসার পরও তিনি রহস্যজনকভাবে ফিরে আসেন। এই বাস্তবধর্মী গ্রামীণ আখ্যানের ভেতর দিয়ে পরিচালক নির্মাণ করেছেন গভীর প্রতীকী ও মানবিক এক চলচ্চিত্রভাষা, যেখানে লোকজ উপাদান, আধ্যাত্মিকতা এবং চক্রাকার গল্প বলার ধরণ চলচ্চিত্রটিকে দিয়েছে স্বতন্ত্রতা।

স্ক্রিনএক্সকোপ ও দেশিইভেন্টসের সৃজনশীল নেতৃত্ব এর আগেও অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে একাধিক প্রশংসিত বাংলাদেশি চলচ্চিত্র সফলভাবে পরিবেশনা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘ডুব’, ‘রেহানা মরিয়ম নূর’, ‘দামাল’, ‘আয়নাবাজি’, ‘নোনা জলের কাব্য’, ‘বাড়ির নাম শাহানা’, ‘চোরাবালি’ এবং ‘জয়া আর শারমিন’।

এবার এই উদ্যোগে অংশীদার হিসেবে যুক্ত হয়েছেন ফিনল্যান্ডপ্রবাসী চলচ্চিত্র পরিবেশক ও প্রযোজক আশরাফুল আলম রনি, যিনি ‘রইদ’কে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের দর্শকদের কাছে পৌঁছে দিতে কাজ করছেন।

চলচ্চিত্র পরিবেশনার পাশাপাশি দেশিইভেন্টস অস্ট্রেলিয়া অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটিভিত্তিক অন্যতম বৃহৎ অনলাইন টিকিটিং ও অনুষ্ঠান আয়োজক প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও পরিচিত। প্রতিষ্ঠানটি এর আগে অর্ণব, ওয়ারফেজ এবং রুনা লায়লার মতো খ্যাতিমান শিল্পীদের কনসার্ট আয়োজন করেছে।

অন্যদিকে স্ক্রিনএক্সকোপ আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত স্বাধীন চলচ্চিত্র ‘টাইগার স্ট্রাইপস’ এবং ‘পূজা, স্যার’ পরিবেশনার মাধ্যমেও আলোচনায় এসেছে। দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বমানের চলচ্চিত্র আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই এবার যুক্ত হলো ‘রইদ’।

স্ক্রিনএক্সকোপের পরিচালনা বিভাগের প্রধান ফয়সাল বাশার বলেন, “বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের জন্য আন্তর্জাতিক বাজার এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি উন্মুক্ত। ‘রইদ’ এমন একটি চলচ্চিত্র, যা শুধু প্রবাসী বাংলাদেশি দর্শকদের সঙ্গেই নয়, ভিন্ন সাংস্কৃতিক পটভূমির দর্শকদের সঙ্গেও গভীর সংযোগ তৈরি করতে সক্ষম।”

দেশিইভেন্টসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ ফয়েজ বলেন, “‘রইদ’ শিল্পমান ও দর্শক-সংযোগ দুই দিক থেকেই শক্তিশালী একটি চলচ্চিত্র। আমরা আনন্দিত যে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের দর্শকদের জন্য এটি বড় পর্দায় নিয়ে আসতে পারছি।”

প্রযোজক ও পরিবেশক আশরাফুল আলম রনি বলেন, “দক্ষিণ এশিয়ার চলচ্চিত্র নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, ‘রইদ’ আন্তর্জাতিক দর্শকদের সামনে বাংলাদেশি গল্প বলার এক নতুন মাত্রা তুলে ধরবে।”

জানা গেছে, আগামী ৫ জুন ২০২৬ থেকে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে চলচ্চিত্রটি মুক্তি পাবে। টিকিট পাওয়া যাচ্ছে দেশিইভেন্টস অস্ট্রেলিয়া এবং রইদ অফিসিয়াল স্ক্রিনিং পেজে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category