বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ০২:৫১ অপরাহ্ন

সিডনির ওরান পার্কে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ও ঈদকে ঘিরে ‘হেনা অ্যান্ড হেরিটেজ’ উৎসবের উদ্বোধন

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬
  • ৭ Time View

অস্ট্রেলিয়ার সিডনির ক্যামডেন সিটির ওরান পার্কে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ও পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বর্ণিল বহুসাংস্কৃতিক আয়োজন “হেনা অ্যান্ড হেরিটেজ – ঈদ আল ফিতর ২০২৬” উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। শনিবার (৭ মার্চ) সন্ধ্যায় ওরান পার্ক লাইব্রেরি হলের স্যান্ডাউন রুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

বহুসাংস্কৃতিক সংগঠন Multilingual Community & Culture Incorporated (MCAC)–এর উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষকে একত্রিত করে সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা এবং কমিউনিটি সংযোগের এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬–এর প্রতিপাদ্য “Balance the Scales”–এর ভাবনা সামনে রেখে নারী নেতৃত্ব, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং কমিউনিটির পারস্পরিক সংযোগকে শক্তিশালী করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

দুই পর্বে আয়োজিত এই উৎসবের প্রথম দিনের কার্যক্রম শুরু হয় ৭ মার্চ দুপুর ১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত। দ্বিতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয় ১৪ মার্চ একই সময় ও একই স্থানে। দুইদিনের পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, মেহেদি শিল্প, ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও গহনা প্রদর্শনী, বিভিন্ন সংস্কৃতির খাবার এবং কমিউনিটি অংশগ্রহণমূলক নানা কার্যক্রম।
উৎসবের মূল অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় ১৪ই মার্চ, যেখানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ক্যামডেনের এমপি স্যালি কুইনেল (Sally Quinnell MP) এবং লেপিংটনের এমপি নাথান হ্যাগার্টি (Nathan Hagarty MP)। তাদের সাথে উপস্থিত ছিলেন ক্যামডেন কাউন্সিলের কাউন্সিলর ড্যামিয়েন কুইনেল এবং ক্যাম্পবেলটাউন কাউন্সিলের কাউন্সিলর মাসুদ চৌধুরী।

৭ই মার্চ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ক্যামডেন কাউন্সিলের মেয়র থেরেস ফেডেলি, কাউন্সিলর ভিন্স ফেরেরী ও রোজ সিকারী।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের নরেলান ব্রাঞ্চের কর্মকর্তারা, আলকেইজার-এর কর্ণধার শেফালি পাল, পারিবারিক আইনজীবী মিস চন্দ্র, এবং বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গামা আব্দুল কাদির, ড. সিরাজুল হক, মো. শফিকুল আলম, বাংলাদেশ থেকে আগত স্বাধীনতা পদক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত ব্যারিস্টার আব্রাহাম লিংকন, ভাষা আন্দোলন সংরক্ষণে ক্যাম্পবেলটাউনে নেতৃত্বদানকারী কায়সার আহম্মেদ, কমিউনিটির সক্রিয় নেত্রী খালেদা কায়সার, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নোমান শামীম, বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া মিডিয়া প্রেস ক্লাব–এর সেক্রেটারি ইকবাল ইউসুফ টুটুল ও ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজী সিমি সুলতানা, নারী সংগঠক সেলিমা বেগম, “আমাদের কথা” অনলাইন পত্রিকার কর্ণধার পূরবী পারমিতা বোস, মল্টিকালচারাল সোসাইটির সেক্রেটারি অর্নব সাহা, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অফ অস্ট্রেলিয়া’র সেক্রেটারি আলমগীর হোসেন, এবিসি স্ট্রিট লাইব্রেরি’র প্রেসিডেন্ট কামাল পাশা, জনপ্রিয় ফটোগ্রাফার তাপস পাল, সহ আরও অনেক কমিউনিটি নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

 

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও ক্যামডেন সিটির কাউন্সিলর এলিজা আজাদ রহমান (টুম্পা) এবং তাঁর টিম নাহিদা সুলতানা, ইলা ফেরদৌসী, লাভলী হোসেন, রীমা আদমার ও সানা আলমহার দীর্ঘদিন ধরে কমিউনিটির উন্নয়ন, বহুসাংস্কৃতিক সম্প্রীতি এবং নতুন নারী উদ্যোক্তাদের এগিয়ে নেওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। বিগত কয়েক বছর ধরে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এই আয়োজন শুধু আনন্দ উদযাপন নয়, বরং এটি নারী উদ্যোক্তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও ভূমিকা রাখছে।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নাহিদা সুলতানা, এবং সহ-সঞ্চালক হিসেবে ছিলেন নতুন প্রজন্মের জোয়ানা, জুহা, নীল ও মাহিকা। পুরো আয়োজনজুড়ে বিভিন্ন কমিউনিটির সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন সংস্কৃতির ঐতিহ্য তুলে ধরার উদ্যোগ লক্ষ করা যায়।

আয়োজক সংগঠন MCAC–এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান এবং ক্যামডেন সিটি কাউন্সিলের কাউন্সিলর এলিজা আজাদ রহমান বলেন,
“ক্যামডেন এখন একটি বৈচিত্র্যময় বহুসাংস্কৃতিক কমিউনিটিতে পরিণত হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা মানুষ এখানে বসবাস করছেন। এমন একটি আয়োজন মানুষের মধ্যে পারস্পরিক পরিচয়, সম্মান এবং সাংস্কৃতিক বোঝাপড়া আরও শক্তিশালী করতে সহায়তা করছে।”

তিনি আরও জানান, কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার আগ থেকেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং কমিউনিটি উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। বহুসাংস্কৃতিক সমাজে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ঐতিহ্য তুলে ধরা এবং বাঙালি সংস্কৃতিকে বৃহত্তর অস্ট্রেলীয় সমাজের সঙ্গে পরিচিত করিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই তিনি ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ভবিষ্যতে নতুন প্রজন্মকে নেতৃত্বে এনে এই উদ্যোগগুলো আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

উৎসবে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তারা স্বল্প স্টল ফি–তে বা অনেক ক্ষেত্রে বিনামূল্যে অংশগ্রহণের সুযোগ পান এবং তাদের সবাইকে পরবর্তীতে সম্মাননা সনদ প্রদান করা হয়। এই আয়োজনে শিশুদের খেলনা বিক্রি করে Deaf Society–এর জন্য তহবিল সংগ্রহও করা হয়।

সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় ভিয়েতনামি বাদ্যযন্ত্র পরিবেশন করেন মিন হা, এবং বাংলাদেশি কমিউনিটির সংগীতশিল্পী লুৎফা খালেদ টুম্পা তাঁর সুমধুর কণ্ঠে গান পরিবেশন করে উপস্থিত অতিথিদের মুগ্ধ করেন।

অনুষ্ঠানে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে যখন স্যালি কুইনেল এমপি দেশীয় জামদানী শাড়ি পরে হলে প্রবেশ করেন। তাঁর এই অংশগ্রহণ ও বহুসাংস্কৃতিক সম্প্রদায়ের প্রতি ভালোবাসা দেখে উপস্থিত অনেকেই তাঁকে ভালোবাসার সাথে “দেশী সিস্টার” উপাধিতে ভূষিত করেন।

অন্যদিকে লেপিংটনের এমপি নাথান হ্যাগার্টি দেশীয় জামদানী কোটি ডাইং ও সিল্ক পাঞ্জাবি পরে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে এই আয়োজনের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তোলেন। উপস্থিত দর্শকরা তাদের এই আন্তরিক অংশগ্রহণে মুগ্ধ হন।

অনুষ্ঠানের শেষে আয়োজকদের পক্ষ থেকে কাউন্সিলর এলিজা রহমান উপস্থিত সকল অতিথি, অংশগ্রহণকারী, স্বেচ্ছাসেবক ও দর্শকদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

আয়োজকদের মতে, “হেনা অ্যান্ড হেরিটেজ” শুধু একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্মান ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category