মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোতে এ বছর কবে পবিত্র ঈদুল ফিতর পালিত হতে পারে- এর সম্ভাব্য তারিখ জানিয়েছেন আমিরাত জ্যোতির্বিদ্যা সোসাইটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আল জারওয়ান।
তিনি বলেছেন, ‘এ বছর আরব বিশ্বে রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ করবে। শাওয়াল মাসের প্রথমদিন হতে পারে ২০ মার্চ।’
অর্থাৎ আগামী ২০ মার্চ শুক্রবার সৌদি আরব, আরব আমিরাত, কাতারসহ ওই অঞ্চলের বেশিরভাগ দেশে ঈদ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
২৯তম রমজানে চাঁদ দেখার সম্ভাবনার ব্যাপারে ইব্রাহিম আল জারওয়ান বলেছেন, ‘আগামী বুধবার ২৯তম রমজানে, আরব দেশগুলোর আকাশে কোনো অর্ধচন্দ্র থাকবে না।’
এদিকে বাহরাইন অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির সহসভাপতি ও অ্যাপ্লাইড ফিজিক্সের অধ্যাপক ড. ওয়াহিব আল নাসের জানিয়েছেন, ‘বাহরাইনে এবার পবিত্র রমজান মাস পূর্ণ ৩০ দিন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী আগামী ২০ মার্চ (শুক্রবার) পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে।’
এর আগে ২০ মার্চ ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইমামস কাউন্সিল। কাউন্সিলের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, অস্ট্রেলিয়ান ফতোয়া কাউন্সিল জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক তথ্য ও চাঁদ দেখার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশেষায়িত বৈজ্ঞানিক সংস্থাগুলোর পর্যবেক্ষণ পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
অন্যদিকে পাকিস্তানের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশটিতে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে ১৯ মার্চ শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। ফলে এ বছর ৩০ রোজা হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। সে হিসেবে পাকিস্তানে ২১ মার্চ শনিবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে।
তবে উপসাগরীয় অঞ্চলে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো ১৮ মার্চ (বুধবার) সন্ধ্যায় বৈঠকে বসবে। ওই দিনটি রমজানের ২৯তম দিন। ইসলামি রীতি অনুযায়ী নতুন চাঁদ দেখার মাধ্যমে পরবর্তী মাসের সূচনা চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা হয়।
সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের একদিন পর বাংলাদেশে ঈদ উদযাপিত হয়ে থাকে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার ওপর। বাংলাদেশে ঈদুল ফিতরের তারিখ নির্ধারণের জন্য জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে।
বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা গভীর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ঈদুল ফিতর উদযাপন করেন। এক মাস সিয়াম সাধনার মাধ্যমে ধৈর্য, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও উদারতার চর্চা শেষে এই উৎসব পালন করা হয়।
চলতি বছর পবিত্র রমজানের প্রথম রোজা শুরু হয় ১৯ ফেব্রুয়ারি।