শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৫:৫৯ পূর্বাহ্ন

ইসরায়েলজুড়ে হামলা ইরানের, মাইন বসাচ্ছে হরমুজ প্রণালিতে

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬
  • ১৬ Time View

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ওই প্রণালীতে মাইন পাতা শুরু করেছে ইরান। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে- যদি মাইন সরানো না হয়, তবে তার সামরিক পরিণতি হতে পারে।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার ১২তম দিনে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলার প্রথম দিনেই দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অন্তত ৪০ জন শীর্ষ নেতা নিহত হওয়ার পর থেকে ইরান পাল্টা আক্রমণ শুরু করে।

ইরানের পক্ষ থেকে ইরাক, কুয়েত, বাহরাইন ও সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে হামলার দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের তেল আবিব, হাইফা ও জেরুজালেমেও হামলার কথাও জানিয়েছে তেহরান।

এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি এলাকায় মাইন স্থাপনের সঙ্গে জড়িত ১৬টি ইরানি জাহাজ নিষ্ক্রিয় বা ধ্বংস করা হয়েছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, এ ধরনের আরও ১০টি জাহাজ ধ্বংস করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লিখেছেন, যদি ইরান সত্যিই হরমুজ প্রণালীতে মাইন বসিয়ে থাকে, তবে তা দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে। অন্যথায় তেহরানকে কঠোর সামরিক প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়তে হবে। তিনি আরও জানান, মাদক পাচার রোধে ব্যবহৃত উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে এখন হরমুজ এলাকায় সন্দেহজনক নৌযান বা জাহাজ শনাক্ত করে ধ্বংস করা হচ্ছে।

বিশ্বের তেল সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারেও উদ্বেগ বাড়ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি তেলবাহী ট্যাংকার নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে নোঙর করে অপেক্ষা করছে। এদিকে, এই সংঘাত নিয়ে আজ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে দুটি আলাদা খসড়া প্রস্তাবের ওপর ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। সংঘাত শুরু হওয়ার পর এটিই প্রথমবারের মতো নিরাপত্তা পরিষদের আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ।

উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রস্তাবে জর্ডানসহ কয়েকটি দেশে ইরানের হামলার নিন্দা জানানো হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল ব্যাহত করার যেকোনো পদক্ষেপ বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। যুক্তরাজ্যসহ ৯০টির বেশি দেশ এ প্রস্তাবকে সমর্থন করেছে।

অন্যদিকে রাশিয়া একটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে সরাসরি কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার নিন্দা জানানো হয়েছে। তবে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রস্তাবকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ বলে মন্তব্য করেছেন। তার দাবি, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category