স্থানীয় সময় গত ১৫ ফেব্রুয়ারি (রবিবার) ওয়েস্টার্ন সিডনির মাউন্ট ড্রুইট সাবার্বে অবস্থিত কেভিন ব্যাট স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ ও প্রাণবন্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে বহুল প্রত্যাশিত রোজা ও ঈদ মেলা। ধর্মীয় আবহ, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও সামাজিক সম্প্রীতির অনন্য সংমিশ্রণে এই মেলা পরিণত হয় প্রবাসী কমিউনিটির এক স্মরণীয় উৎসবে।
মেলায় মোট ২০টি পোশাকের স্টল, পাঁচটি খাবারের স্টলসহ আচার, খেলনা, জুয়েলারি, গিফট এবং আর্ট অ্যান্ড ক্রাফটের নানা আকর্ষণীয় স্টল দর্শনার্থীদের দারুণভাবে আকৃষ্ট করে। দুপুর ১২টা থেকে মেলা শুরু হলেও বৃষ্টির কারণে দুপুরে লোকসমাগম কিছুটা ব্যাহত হয়। তবে বিকেলের দিকে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে মানুষের ঢল নামে এবং মেলাপ্রাঙ্গণ উৎসবের রঙে ভরে ওঠে।
এই বর্ণিল আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ক্লাইমেট চেঞ্জ ও এনার্জি মন্ত্রী ক্রিস বোয়েন এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে স্টেট মাল্টিকালচারাল মিনিস্টারের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন এডমান্ড এটালা এমপি। আরও উপস্থিত ছিলেন স্টেট এমপি স্টিফেন বালি, ব্ল্যাকটাউন কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র কেরল ইসরাইল, কাউন্সিলর জুলি গ্রিফিথ ও মানন্দির সিং। বাংলাদেশ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব কাজী আলী-সহ শ্রীলঙ্কা, ভুটান, ভারত ও পাকিস্তানের বিভিন্ন কমিউনিটি লিডারদের অংশগ্রহণ মেলাকে বহুসাংস্কৃতিক সৌহার্দ্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্তে রূপ দেয়।
বিকেল পাঁচটায় আনুষ্ঠানিক ও সাংস্কৃতিক পর্বের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে সংগঠনের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ইমতিয়াজ মর্তূজা গালিব স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন। এরপর সংগঠনের প্রেসিডেন্ট ড. নার্গিস বানু অতিথি ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতির জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।
অনুষ্ঠানে ছোট্ট শিশু আয়মানের পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত পরিবেশকে করে তোলে ভাবগম্ভীর ও আবেগঘন। পরে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে বাংলাদেশের বিভিন্ন উৎসবের গান ও রঙিন পোশাকের মনোমুগ্ধকর প্যারেড শো পরিবেশনা করা হয়, যার সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন ডা. ফারাহ নাজ ও রওনক আদনান।
অতিথিদের বক্তব্য পর্ব সুশৃঙ্খলভাবে সঞ্চালনা করেন নাবিলা বানু। সাংস্কৃতিক পর্বে লিয়ন আনজুমের নৃত্য, মিসেস শাহিদা হুসাইন ও জনাব শফিকুল লস্করের গান এবং কবিতা আবৃতিতে মঞ্চ হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও উপভোগ্য। পুরো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন ডা. নাহিদ সিনহা ও নুরুন্নাহার টুম্পা।
অতিথিদের আপ্যায়ন ও রিফ্রেশমেন্ট ব্যবস্থাপনায় বিশেষ অবদানের জন্য মিসেস শাহেদা বেগম, মিস শারমিন ইভা ও মিসেস বিউটি ইশরাতকে আয়োজকদের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়। আনন্দ, ভ্রাতৃত্ব ও সংস্কৃতির এই মিলনমেলা রাত ৯টা পর্যন্ত চলতে থাকে এবং অংশগ্রহণকারীদের মনে রেখে যায় প্রবাসে সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল ও অনুপ্রেরণাময় স্মৃতি।