বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:৫৬ পূর্বাহ্ন

সংসদ নির্বাচন : সারাদেশে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ চলছে

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ২১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৮ Time View

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশে নির্বাচনী এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া চলছে।

আজ বুধবার সকাল থেকে সারাদেশের ২৯৮টি আসনে রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রার্থীদের মধ্যে এই প্রতীক বরাদ্দ করছেন।

ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক বাসসকে বলেন, ‘আজ বিকেল ৫টা পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রতীক বরাদ্দ দেবেন। এরপর কোন আসনে কতজন প্রার্থী, তা নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) জানাবেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তালিকা সংক্রান্ত ফরম-৫ পূরণ করে পাঠাবেন।  সেই আলোকে ব্যালট পেপার ছাপানো হবে।’

এ সময় তিনি আরও জানান, আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে ব্যালট পেপার ছাপানোর কাজ শুরু হতে পারে।

মো. রুহুল আমিন মল্লিক বলেন, প্রার্থীরা আজ নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারবেন না। আগামীকাল ২২ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা করতে পারবেন।

এ দিকে আজ সকাল নয়টা থেকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনের মিলনায়তনে রিটার্নিং অফিসার ও প্রার্থীদের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে ঢাকা-১৩ আসনের দুই জন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট নয় জন ও ঢাকা-১৫ আসনে আট জন প্রার্থীদের মধ্যে তাদের নিজ নিজ পছন্দের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশে মোট ১ হাজার ৯৬৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন বলে ইসি থেকে জানানো হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময়ে সারাদেশে মোট ৩০৫ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন।

ইসি’র কর্মকর্তারা জানান, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দলীয় ও স্বতন্ত্র মিলে ২৯৮ আসনে (পাবনা-১ ও ২ বাদে) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ১ হাজার ৯৬৭ জন প্রার্থী। নির্বাচনে ৩০০ আসনে ২ হাজার ৫৮৫টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল। এর মধ্যে ১ হাজার ৮৫৮ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ছিল এবং ৭২৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়।

তারা আরও জানান, পরবর্তীতে বাতিলের বিরুদ্ধে ৬৩৯ জন আপিল করেন এবং আপিল শুনানি শেষে প্রার্থিতা ফেরত পান ৪৩১ জন।

তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা শুরু হবে এবং ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার ৪৮ ঘণ্টা পূর্ব পর্যন্ত এই প্রচারণা চালানো যাবে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ব্যালট পেপারের মাধ্যমে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হবে।

প্রতীক বরাদ্দের বিষয়ে ইসি’র পরিপত্রে বলা হয়, ‘প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখের পরের দিন অর্থাৎ ২১ জানুয়ারি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীগণের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করে নামের তালিকা প্রকাশ করতে হবে।’

এ বিষয়ে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ২০ অনুযায়ী, কোনো নির্বাচনী এলাকায় প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর, এক বা একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকলে, রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রতীক বরাদ্দ করবেন। এ ক্ষেত্রে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থীকে সংশ্লিষ্ট দলের জন্য সংরক্ষিত প্রতীক বরাদ্দ করা হবে।

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিধি অনুসারে নির্ধারিত প্রতীক বরাদ্দ করা হবে।

প্রতীক বরাদ্দের সময় যতদূর সম্ভব প্রার্থীর পছন্দকে বিবেচনায় নেওয়া হবে।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের বিধান অনুযায়ী, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের অনুকূলে প্রতীক সংরক্ষিত থাকে।

মনোনয়নপত্রের সঙ্গে প্রার্থী কোন রাজনৈতিক দলের মনোনীত, তা উল্লেখ থাকে।

একটি দল থেকে একাধিক মনোনয়ন দেওয়া হলে, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় অর্থাৎ ২০ জানুয়ারি বিকেল ৫টার মধ্যে দলগুলো তাদের চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করবে, আর সে অনুযায়ী রিটার্নিং কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট দলের সংরক্ষিত প্রতীক মনোনীত প্রার্থীকে বরাদ্দ দেবেন।

প্রতীক বরাদ্দের আগে প্রার্থী যে রাজনৈতিক দল থেকে মনোনীত হয়েছেন, সে সম্পর্কে দলিলাদি দ্বারা প্রমাণের ভিত্তিতে নিশ্চিত হতে হবে।

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮-এর বিধি ৯ অনুযায়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য নির্ধারিত প্রতীক থেকে প্রতীক বরাদ্দ করা হবে।

একই প্রতীকের জন্য একাধিক প্রার্থী দাবি জানালে, আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার চেষ্টা করা হবে, আর সমঝোতা না হলে, লটারির মাধ্যমে প্রতীক নির্ধারণ করা হবে।

তবে কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থী আগে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে থাকলে এবং তার পছন্দের প্রতীক সংরক্ষিত না থাকলে বা অন্য কাউকে বরাদ্দ না দেওয়া হলে, তিনি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেই প্রতীক পাওয়ার অধিকারী হবেন।

প্রতীক বরাদ্দের পরপরই সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে প্রতীকের একটি নমুনা সরবরাহ করা হবে, যা নির্বাচনী প্রচারণার জন্য প্রয়োজন।

নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটেও প্রতীকগুলোর নমুনা পাওয়া যাবে।

বিধিতে উল্লিখিত প্রতীকের নমুনাসহ পোস্টার ইতোমধ্যেই মাঠ পর্যায়ে সরবরাহ করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন থেকে সরবরাহ করা নমুনার বাইরে অন্য কোনো প্রতীক বরাদ্দ বা প্রতীকের নমুনা কোনো প্রার্থীকে দেওয়া যাবে না।

এর আগে, গত ১১ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে ভাষণের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল ২৯ ডিসেম্বর।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category