মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন

না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন চিত্রজগতের স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব: জয়শ্রী কবির

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৮৭ Time View

বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক সুন্দর ও সংযত অধ্যায়ের নাম জয়শ্রী কবির। ভারত ও বাংলাদেশ দুই বাংলাতেই ১৯৭০ ও ৮০–এর দশকে তাঁর অভিনয় এক বিশেষ সময়ের প্রতিনিধিত্ব করে, যা আজও দর্শকের স্মৃতিতে উজ্জ্বল।

জয়শ্রী কবিরের জন্ম আনুমানিক ১৯৫২ সালে কলকাতায়। কলেজ জীবনে তিনি “মিস কলকাতা” খেতাব অর্জনের মাধ্যমে প্রথম আলোচনায় আসেন। পরবর্তীতে কিংবদন্তি পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় প্রতিদ্বন্দ্বী সিনেমার অভিনয়ের মাধ্যমে তাঁর চলচ্চিত্রে সূচনা ঘটে।

অভিনয়জীবনে জয়শ্রী কবির টলিউড ও ঢাকাই দুই চলচ্চিত্র অঙ্গনেই নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেন। তিনি প্রায় ৩০টির মতো বাংলা ও বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে সীমানা পেরিয়ে, রূপালী সৈকতে, সূর্য কন্যা, সব্যসাচী প্রভৃতি।

বিশেষ করে ১৯৭০ এর দশকে মুক্তিপ্রাপ্ত সীমানা পেরিয়ে ও রূপালী সৈকতে এই দুই ছবিতে তাঁর অভিনয় আজও সমালোচক ও দর্শকের কাছে সমানভাবে প্রশংসিত। বাংলাদেশের দর্শকের কাছে রূপালী সৈকতে ছবিতে তাঁর উপস্থিতি একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে আছে।

চলচ্চিত্রজীবনের একটি পর্যায়ের পর জয়শ্রী কবির ধীরে ধীরে পর্দার আড়ালে চলে যান। তিনি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং সেখানে একজন ইংরেজি ভাষার শিক্ষক হিসেবেও কর্মজীবন পরিচালনা করেন।

দীর্ঘ নীরব জীবনযাপনের পর শিল্পজগতের এই সম্মানিত অভিনেত্রী ১২ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে যুক্তরাজ্যের এসেক্সের রোমফোর্ডে অবস্থিত একটি নার্সিং হোমে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় ৭৪ বছর।

জয়শ্রী কবির কেবল একজন অভিনেত্রী নন, তিনি দুই বাংলার চলচ্চিত্র ইতিহাসের এক স্মরণীয় নাম। তাঁর অভিনীত ছবিগুলো আজও নতুন প্রজন্মকে বাংলা সিনেমার ঐতিহ্য ও সংবেদনশীল ধারার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়।

তাঁর প্রয়াণে দর্শক, সহশিল্পী ও চলচ্চিত্রপ্রেমীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন। অনেকেই মনে করছেন, জয়শ্রী কবির ছিলেন সেই সময়ের একজন নীরব কিন্তু প্রভাবশালী শিল্পী, যিনি বাংলা চলচ্চিত্রকে নিজস্ব সংযত অভিনয় ও ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে সমৃদ্ধ করেছিলেন।
জয়শ্রী কবিরের মৃত্যু বাংলা চলচ্চিত্রের একটি নীরব অধ্যায়ের সমাপ্তি টানল। তিনি হয়তো দীর্ঘদিন পর্দার বাইরে ছিলেন, কিন্তু তাঁর অভিনীত সিনেমা, বিশেষ কিছু দৃশ্য এবং এক সময়ের দর্শকের মনে গেঁথে থাকা উপস্থিতি বাংলা চলচ্চিত্রের আর্কাইভে চিরকাল রয়ে যাবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category